দুশ্চিন্তায় নদীপাড়ের মানুষ,
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্লাবিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বরং নদীর তীর ধসে পড়তে শুরু করায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।
উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি দ্রæত বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়। বর্তমানে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীঘেঁষা গ্রামগুলোতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী ও টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের আরাজি হরিশ্বর, গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, নিজপাড়া, তালুক শাহবাজ, চর ঢুসমারা এবং টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণশর্মা, গনাই, চর গনাই, বিশ্বনাথ ও হয়বতখাঁ গ্রাম সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে তিস্তার ভয়াল ভাঙনে এসব এলাকার প্রায় ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত পরিবারের বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চরগনাই গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া জানান, কৃষি বিভাগের কাছে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া জমির সঠিক কোন কত্য নেই, এমন কি ফসলি জমি হারা মানুষ গুলোর জন্য কৃষিবিভাগ কোন সহযোগিতাও করে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ৩মন্ত্রী এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, এরপ মোহাম্মদ ইউনুছ সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজয়ানা হাসান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, সর্বশেষ গত শুক্রবার বিএনপি সরকারের ৩মন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি দিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি আজও বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে প্রতি বছরই বন্যা ও ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষকে।
এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীর উজান ও তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ী নদীশাসন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রæত বাস্তবায়ন ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা হারানোর শঙ্কায় থাকতে হবে তিস্তাপাড়ের মানুষকে।