https://www.a1news24.com
১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০৮

কাউনিয়ায় পাট চাষে আগ্রহ কমছে

পাটের ঐতিহ্য রক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই কৃষি ও পাট উন্নয়ন দপ্তরের

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ একসময় পাটকে বলা হতো দেশের ‘সোনালী আঁশ’। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে সেই সোনালী আঁশ এখন অনেক কৃষকের কাছে লোকসানের ফসলে পরিণত হয়েছে। পাট উৎপাদনের জন্য খ্যাত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় পাটের হারানো সুদিন ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিভাগ ও পাট উন্নয়ন দপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, পাট চাষে উৎসাহ দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। পাট উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হলেও অনেক সময় তা মৌসুমের শেষ দিকে পৌঁছায়। ফলে সময়মতো বপন করতে না পারায় সরকারি বীজের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ পেলেও সার সময়মতো না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ১০০ জন কৃষককে উন্নত পাট উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও প্রকৃত পাটচাষিরা সেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বছর কৃষকরা দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১০১ বেল। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে গত বছরের তুলনায় পাটের আবাদ কমেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অনেক কৃষকের পাট বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে।

গদাই গ্রামের পাটচাষি আল আমিন বলেন, “এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে বীজ, সার, ওষুধ, শ্রমিক, সেচ, কাটা, জাগ দেওয়া ও শুকানোসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে সর্বোচ্চ ১৪ মণ পাট পাওয়া যায়। কিন্তু কৃষকের পাট বিক্রি শেষ হওয়ার পরই সাধারণত বাজারে দাম বাড়ে।”

আরেক কৃষক শাহজাহান মন্ডল বলেন, “কয়েক বছর ধরে পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেকেই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পাট ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রচুর শ্রম দিতে হয়, কিন্তু সে তুলনায় লাভ কম। এবছর ভালো দামের আশায় চাষ করেছি, আগামীতে কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।” সাব্দী গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “সোনালী আঁশের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিভাগ ও পাট উন্নয়ন দপ্তরের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পাট অধিদপ্তর ও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করতে নিয়মিত কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ে না।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়া, সিনথেটিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার এবং ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কৃষকদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, “পাটের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পাট থেকে শুধু বস্তা, চট বা ছালা নয়, প্রায় ১৩১ ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যার বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে এবং পাটের হারানো ঐতিহ্যও ফিরে আসবে।”

আরো..