https://www.a1news24.com
২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:২৪

স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন, অজ্ঞান অবস্থায় পুলিশ গিয়ে উদ্ধার

হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা ঃ ঘরের দরজা বন্ধ করে হাত পা বেঁধে। মুখে ওড়না পেঁছিয়ে শুরু হয় অমানুষকি নির্যাতন। পিটাতে পিটাতে একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গলা পা দিয়ে চেপে ধরা হয়। পরে নির্যাতনের এ আওয়াজ শুনানো হয় স্ত্রীর পিতাকে। সংবাদ পেয়ে পুলিশের সহযোগতিায় উদ্ধার করা হয় সেই নির্যাতিতাকে। অচেতন অবস্থায় ভর্তি করা হয় উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ডের ২৪ নং বেডে ভর্তি আছেন নির্যাতিতা ফারজানা বেগম। কথা হয় তার সাথে। লোমর্হষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফারজানা বলেন, সাত বছর আগে আবদুল গনির সাথে তার বিয়ে হয়। দুইটি পুত্র সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে ধাপে ধাপে বাপের বাড়ী থেকে র্স্বণালংকার নগদ অর্থ ঘর তৈরির জন্য গাছ ও আসবাবপত্র হাড়িপাতিল অনেক কিছু স্বামীকে দেওয়া হয়। কিন্তু তার আরো টাকা দরকার। যা বাবার পক্ষে সম্ভব হয় না। টাকার জন্য প্রায় আমাকে নির্যাতন করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিত। এদিকে আমার স্বামী বাড়ীর পাশের তার এক বিধবা মামাতো বোনের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। স্বামীর অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেদম মারধর করতে থাকে।

ঘটনার দিন আবদুল গনি নৌকা থেকে এসে বিধবা মামাতো বোনের বাড়ি যাওয়ার খবর শুনে আমি বাঁধা দিতে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ইচ্ছেমত মারধর করে বাজারে চলে যায়। রাতে বাজার থেকে এসে ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগে তার মা বাবা ভাই ঘরে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে আমাকে খাটের সাথে বেঁঁধে মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। একপর্যায়ে আমার বুকের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে নির্যাতনের আওয়াজ মোবাইলে বাবাকে শুনানো হয়। এ সময় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে ঘুম ভাঙলে দেখি আমি হাসপাতালে।

এ বিষয়ে ফারজানার পিতা মো: হানিফ বলেন, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য নানাভাবে আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। মেয়ের শান্তির জন্য বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণ নগদ টাকা ও ঘরের দরকারি জিনিসপত্র পাঠালেও নির্যাতন যেন থামছেনা। সে আমার মেয়েকে মারছে আর চিৎকারের আওয়াজ মোবাইল করে আমাকে শুনাচ্ছে। আমি যেন তাদের বাড়ী না যায় সে জন্য হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় আমাকে। পরে থানায় অভিযোগ দিলে আমার মেয়েকে এস আই প্রতিক পাল গিয়ে রাত দশটার সময় উদ্ধার করে হাতিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই বিষয়ে বার বার ফারজানার স্বামীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। কথা হয় পাশবর্তী সূর্যমূখী মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ফারজানার স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহ চলে আসছে অনেক দিন থেকে। শনিবার একটি শালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারন ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাতে মেয়ের বাবা মোবাইলে করে তার মেয়েকে পিটানো হচ্ছে বলে জানান। পরে শুনেছি পুলিশ এসে ফারাজানাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। ফারজানার স্বামী আব্দুল গনি মাছ শিকারে সাগরে চলে যাওয়ায় তার সাথে কথা বলা যায়নি।

হাতিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রতিক পাল জানান, গৃহ্ধুকে নির্যাতন করে ঘরে বন্ধি রাখা হয়েছে একটি অভিযোগ থানায় আসে। পরে গৃহবধুর শশুর বাড়ী থেকে রাতে তাকে অনেকটা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর পিতা-মাতা এই বিষয়ে থানায় এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো..