বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় প্রকাশ্যে ভারতীয় পণ্য বিক্রি: নজরদারির ফাঁকে নকল পণ্যে প্রতারণা
সাফিউল ইসলাম সাফি, পাটগ্রাম লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই বিভিন্ন দোকানে প্রকাশ্যে ভারতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয়, কিছু চতুর ব্যবসায়ী ভারতীয় মোড়ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত নিম্নমানের নকল পণ্য ‘ইন্ডিয়ান’ ব্র্যান্ড হিসেবে বিক্রি করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও জানা গেছে।
স্থলবন্দর সংলগ্ন বাজার ও সড়কের ধারের দোকানগুলোতে ভারতীয় প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, পান-মশলা, বিস্কুট, চকলেটসহ নানা পণ্য খোলামেলাভাবে বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেক পণ্যে আমদানির বৈধ কাগজপত্র বা অনুমোদনের সিল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব পণ্যের বেশিরভাগেই চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী ভারতীয় কোম্পানির আদলে মোড়ক তৈরি করে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করছেন। মোড়কে হিন্দি লেখা, ভারতীয় পতাকার রং বা ভারতীয় ঠিকানা ব্যবহার করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা বেশি দামে কিনলেও পাচ্ছেন না প্রত্যাশিত মান।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, ভারতীয় বলে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনেছি। পরে দেখি একই জিনিস স্থানীয় কারখানায় তৈরি, মানও খারাপ।
অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণহীন খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভেজাল বা নকল ওষুধ ও খাদ্যপণ্য দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের চোখের সামনেই এসব পণ্য বাজারজাত হওয়ায় নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুড়িমারী কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর এরিয়ায় ভারতীয় পণ্য বিক্রির বিষয়টি আমাদের দেখভালের মধ্যে পড়ে না, এটা বিজিবির কাজ।
তবে বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা চাইলেও এসকল দোকানে অভিযান করতে পারিনা, অভিযান করতে গেলে পুলিশ বিজিবি ও ইউএনও এর মাধ্যমে ট্রাক্সফোস গঠন করে অভিযান করতে হবে। এবিষয়ে বক্তব্য নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
৬১ বিজিবির বুড়িমারী ক্যাম্পের জেসিও জোবায়েদ জানান, বন্দর এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে টাক্সফোস গঠন করে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জরিমানা আরোপ করা হয়। এরা বেশিরভাগ ভারতীয় পন্যের নাম ব্যবহার করে নকল লোকাল পণ্য প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে। এর পরেও নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ৬১বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার (সিও) রংপুর লেঃ কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় চোরাকারবারীসহ সকল প্রকার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে ১৬জনের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষনিক কাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিজিবি, কাস্টমস ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার ও নকল পণ্য উৎপাদনকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সীমান্ত বাণিজ্যের আড়ালে অবৈধ পণ্য ও নকল ব্যবসা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি সাধারণ মানুষও প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হতে থাকবে।