https://www.a1news24.com
২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৯

আইল্যান্ড ক্যাপটিভিটি থেকে হাতিয়াবাসী মুক্তি চায়

মো. ইফতেখার হোসেন তুহিন, হাতিয়া (নোয়াখালী) হাতিয়া দ্বীপের সাথে যোগাযোগের অন্যতম নৌ-রুট নলচিরা-চেয়ারম্যানঘ্টা সিট্রাক সার্ভিস। অন্যটি তমরদ্দিঘাট-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস। স্বাধীনতার পরপরই হাতিয়া চরজব্বর সিট্রাক সার্ভিস শুরু হলেও তমরদ্দিঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিসও প্রায় ২৮ বছর ধরে।

সম্প্রতি দ্বীপ হাতিয়ায় মানুষের মাঝে এক আতঙ্ক ভর করেছে। যা ছড়িয়ে পড়েছে দ্বীপের ব্যবসায়ী, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের, জরুরী স্বাস্থ্যসেবা, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি কিংবা চাকরির সাক্ষাৎকার প্রত্যাশীদের মাঝে। আবহাওয়ার ৩নং সতর্ক সঙ্কেতের কারণে নৌযোগাযোগ বন্ধ করে মানুষের প্রয়োজনে চলার গতিকে থামিয়ে দিচ্ছে। টানা ৪-৫ দিন মানুষ দ্বীপে বন্দি হয়ে পড়েন। দ্বীপে এভাবে বন্দিদশা হয়ে থাকাকে আইল্যান্ড ক্যাপটিভিটি আখায়িত করছেন ভুক্তভোগীরা।

দ্বীপ বন্দিদশা বা আইল্যান্ড ক্যাপটিভিটি কেন সৃষ্টি হচ্ছে এ বিষয়ে ল্যাব মালিক জিল্লুর রহমান জানান, সমুদ্র বন্দরের ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত হাতিয়া চ্যানেলে তেমন প্রভাবিত হয় না। স্বাভাবিকভাবে লোকজন জেলা সদরের সাথে সিট্রাকে এবং ঢাকা তমরদ্দি লঞ্চে চলাচল করত। ৩ নং সিগন্যালে নৌযান বন্ধ করা হাতিয়াবাসী পূর্বে দেখে নাই। গত তিনমাস থেকে ৩ নং সঙ্কেতে সকল নৌযান বন্ধ করে দেয় সরকারি নির্দেশনায়। তখন কোনভাবেই দ্বীপ থেকে বেরুনোর উপায় থাকে না। অনেক সময় সঙ্কেত চলাকালীন দ্বীপ থেকে প্রায় সপ্তাহই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকে। দুর্বিষহ যন্ত্রণা আর উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ভুক্তভোগীরা এ সময় আইল্যান্ড ক্যাপটিভিটির শিকার হয়।

তমরদ্দি বাজারের ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন নিজাম জানান, যদি বন্দরে তিন নম্বর সঙ্কেতেও ঢাকার লঞ্চ চাঁদপুরের উত্তাল নদী ত্রিমোহনা অতিক্রম করে নিরাপদে হাকিমুদ্দিন ঘাটে আসে। সেখান থেকে হাতিয়ার তমরদ্দিঘাটের নদী পথ খালের মত। চরের মাঝ দিয়ে শান্ত ও আঁকাবাঁকা নদী তার চেয়েও নিরাপদ। অথচ ঢাকার উদ্দেশ্যে ইমারজেন্সি রোগী, বহিরাগত পর্যটক, সরকারি লোকজন, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ীদেরকে কর্পোরেশনের সামনে ইজারাদাররা কাঠবডি ট্রলার দিয়ে হাকিমুদ্দিনঘাটে নিয়ে লঞ্চে পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হাতিয়াবাসীর যাতায়াতের বিষয়ে চরম উদাসীনতা যুগ যুগ ধরে। এখানে যদি সাগর থেকে কাঠবডির ট্রলারে লোকজন গিয়ে নদীতে দাঁড়ানো লঞ্চে উঠতে হচ্ছে! কর্পোরেশনের এই লঞ্চগুলো ত্রিশ বছর ধরে আসতে পারলেও এখন কেন সেই পথে আসতে পারছেনা। এতে ব্যবসা বানিজ্য বন্ধের উপক্রম। ব্যবসায়ীদের মালামাল অর্ডার দিয়ে ঢাকার পার্টিকে টাকা পঠিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সে লঞ্চ আট দিন পর হাতিয়া তমরদ্দি ঘাটে আসে। আট দিনের অর্থনৈতিক দূরাবস্থা কাটিয়ে উঠা কিভাবে সম্ভব।

তাসরিফ-১ লঞ্চের মাস্টার রফিক জানান, ঢাকা থেকে হাকিমুদ্দিন পর্যন্ত নদী বন্দর, এর পরের অংশ সামুদ্রিক এলাকা। ৩ নং সঙ্কেত পেলে সমুদ্র বন্দরের দিকে লঞ্চ ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা দেন বিআইডবিøউটিএ। লঞ্চ সংশ্লিষ্ট একজন জানান, দেশের কেহই কোন কিছুর দায়িত্ব নিতে চায় না।

সকল শ্রেনির কাছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করা এ বিষয়ে তমরদ্দি বাজারের ব্যবসায়ী শেখ জালিশ মাহমুদ বলেন, দুই রুটে প্রয়োজনের তাগিদে প্রতি মূহুর্ত মানুষ ছুটে চলছে। কিন্তু গত তিন মাস ধরে কিছুদিন পরপর লঞ্চ বন্ধ করে দেয় ৩ নং সমুদ্র সংকেতের অজুহাতে। এক দুদিন নয়। টানা আট দিন ধরে ঢাকার লঞ্চ বন্ধ রেখে ব্যবসায়ী, ঢাকা থেকে আগত ডাক্তার, কুরিয়ার সার্ভিস সহ সকল পর্যায়ের উপকারভোগীদের অবর্ণীয় দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা যেমন বেড়েছে তেমনি এর জন্য সরকারি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গীকেও দায়ী করছেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির ৩১ আগষ্টের সভায় সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। পরে সভার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলাউদ্দিন সভাকে অবহিত করেন যে, আজকের আলোচনা হাতিয়ার যাতায়াতে নৌযানের দুর্ভোগ বিষয়ের রেজুলেশান যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো..