আব্দুর রহিম রিয়াদ ,ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি: ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন তা কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মাঝামাঝি অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছেছিল। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পানির উচ্চতা ৫২.০১ সেন্টিমিটার।তবুও পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।তবে পানি কমলেও এখন নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে দিন-রাত কাটছে নদী বেষ্টিত এলাকার মানুষজনের।
খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও সিদ্দিক জানান,পানি বাড়লেও আমাদের ক্ষতি আবার বাড়ার পর কমলেও আমাদের ক্ষতি।কারণ বাড়ার পর পানি হঠাৎ কমলে তখন বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।তাই এলাকাবাসীর নির্ঘুম রাত কাটছে এখন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উজানে পানি বাড়লে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫, ৯টায় ১০, দুপুর ১২টায় ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকাল ৩টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। তবে আজ ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পাউবো সূত্র জানায়, বন্যার পানি নামায় উজানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় চর গ্রামে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।
এ ছাড়াও ব্যারাজের ভাটি অঞ্চলে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও চরের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা মানবেতর দিন পার করছেন। এলাকার বানভাসি মানুষজন বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন। বাড়িঘরে হাঁটু পরিমাণ পানি প্রবেশ করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন অনেকে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরসহ অন্য চর গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমি ও ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
এদিকে, জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোপালঝাড় ও আলসিয়া পাড়ার প্রায় শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে ধীরে ধীরে পানি কমার সাথে সাথে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) তহিদুল ইসলাম বলেন, উজানের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলের ফলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ইতিমধ্যেই নিম্নাঞ্চলসহ চরগ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। তবে গত আজকে ডালিয়া পয়েন্টে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি গতকাল(মঙ্গলবার) বেড়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ (বুধবার)সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কমেছে- যা এখন বিপদসীমার নিচে। আগী ২৪ ঘন্টায় পানি আরএ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বন্যা আতঙ্ক তেমন একটা নেই আপাতত। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এ জন্য আমরা সতর্কাবস্থায় আছি।