টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শুষ্ক মৌসুম, বৃষ্টি নেই। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারাচালা মোড় থেকে নতুন বাজার সড়কের ভূঁইয়া মার্কেটের সামনে শরিফ ভূঁইয়া তারা বসতবাড়ীর সেপটি ট্যাংকের ময়লা পানি সড়কে ছেড়ে দিয়েছে। সড়কে টয়লেটের ময়লা পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় শরিফ ভূঁইয়া সড়কের পাশেই নির্মাণ করা তার বাড়ীর সেপটি ট্যাংক থেকে ময়লা পানি সড়কে ফেলছে। ফলে চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
মানুষের বিষ্ঠাযুক্ত পানির দুর্গন্ধে প্রায় মাস খানেক যাবত সড়কের আশপাশের দোকানপাট বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকাবাসী দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। ময়লা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে এক সপ্তাহ যাবত দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন সড়কের আশপাশের ব্যবসায়ীরা। নিরুপায় হয়ে তারা গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন পৌর প্রশাসক বরাবর।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, দেড় মাস যাবত ম্যানহোলের মুখ দিয়ে পচা পানি বের হচ্ছে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি সারাদিন সড়কে জমে থাকে।
সড়কের পাশের বাসার এক গৃহিনী বলেন, ময়লা পানির গন্ধে বাসার ভেতর থাকা যায় না। সারা দিন কিছু করতে পারি না। বাচ্চারাও বাসার বাইরে যেতে পারছে না।
স্থানীয় বেড়াইদেরচালা স্কুলের শিক্ষার্থী সানি, আল-আমীন, ফরিদ হোসেন, সায়মা ও রোজিনা আক্তার বলেন, জলাবদ্ধ অংশটুকু জামা হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় জামা ধরে পার হওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থীর হাত থেকে বই পড়ে ভিজে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ময়লা পানি মাড়িয়েই তাদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন, দোকানের সামনে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকার কারণে কোনো কাস্টমার (ক্রেতা) দোকানে আসতে চায় না। ব্যবসা-বাণিজ্য নেই বললেই চলে।
এলাকাবাসি বলছেন, পয়োনিষ্কাশনের নালা সরাসরি সড়কে ছেড়ে দেয়ায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনেকের দোকানপাটের সামনে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে শ্যাওলা পড়ে গেছে। শৌচাগারের পানি সড়কে ছেড়ে দেয়ায় এ সড়ক দিয়ে নাক বন্ধ করে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং পথচারীদেরকে। সরেজমিনে দেখা যায়, শরিফ ভূঁইয়ার বসতবাড়ীর সেপটি ট্যাংকটি সড়কের ফুটপাতে নির্মাণ করা হয়েছে। সেপটি ট্যাংক থেকে ময়লা পানি সরাসরি সড়কে ছেড়ে দিয়েছে। সড়কের প্রায় ৩০০ গজ পর্যন্ত পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা পানি জমে থাকার কারনে বুঝা যায়না এটা পৌরসভার পাকা কার্পেটিং সড়ক। এ সড়কে নতুন পথচারী বা চালক ভূঁইয়া মার্কেটের সমানে আসলেই ধরে নিবে সড়কের মাঝখানে গর্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে শৌচাগারের পানি সড়কে জমে থাকার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রিকশা ছাড়া হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই। অনেকেই আবার চলাফেরা করছেন গামবুট (বড় জুতা) পায়ে। দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শরীরে বিভিন্ন চর্মরোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং দ্রæত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।