ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার কাজ শেষ করার আগে নির্বাচন নয়। প্রথমে স্থানীয় নির্বাচন হবে। স্থানীয় নির্বাচন আগে হলে নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টিকারী দৈত্য-দানবগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে। এই দৈত্যদানবগুলোকে আটকে দিয়ে জাতীয় নির্বাচন দিলে সেই নির্বাচন ফেয়ার হবে। নিবৃাচনে জনগণের ভোটের প্রতিফলন সম্ভব হবে। অন্যথায় অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার সমূহসম্ভবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের জন্যে পাগলপারা তারাই সেই দৈত্যদানব।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ঐতিহাসিক চরমোনাই ময়দানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে আগত শ্রমিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কেএম বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফেজ রফিকুল ইসলাম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা শাহ জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ কামাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) আলহাজ্ব মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, খুলনা বিভাগ আবুল কালাম আজাদ, মোমেনশাহী বিভাগ হাজী মুহাম্মদ শাহিন আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগ মুহাম্মদ শরিকুল ইসলাম, ফরিদপুর বিভাগ মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী বিভাগ সিলেট বিভাগ রুনু, প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসমত আলী।
মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, বৈষম্য দূর করতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু এখনো শ্রমিক-জনতা চরম বৈষম্যের শিকার। সরকার আসে, সরকার যায় শ্রমিকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। তিনি বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
হাফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ৫৩ বছরেও যারা বৈষম্য দূর করতে পারেনি তাদেরকে জনগণ পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করে যারা দেশকে পূর্বের জায়গা নিয়ে যেতে চায় তারা দেশও জনগণের শত্রু। তারা ফ্যাসিবাদের দোসর।
সেক্রেটারী জেনারেল কেএম বেলাল হোসাইন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য যারা অস্থির হয়ে উঠছে, তারা ফ্যাসিবাদ পুন: প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন হলে জনগণের কোন কল্যাণ হবে না। নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ যেন প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সে জন্য সংস্কার করা জরুরি।