https://www.a1news24.com
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২৭

তালুকদার লাভলীর কাব্যগ্রন্থ ‘আমার বিষণ্ণ শব্দাবলি’র পাঠ-উন্মোচন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শনিবার শরতের বৃষ্টিঝরা বিকেলে কবি ও কথাসাহিত্যিক তালুকদার লাভলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আমার বিষণœ শব্দাবলি’র পাঠ-উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। পেন বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও কবি নোমত উল্যা ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন প্রথিতযশা কথাশিল্পী হরিশংকর জলদাস, পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কবি শামীম রেজা এবং গবেষক ও অনুবাদক কবি ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট কবি, আবৃত্তিকার দেওয়ান সাঈদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে তার কবিতায় প্রতিবাদ, দ্রোহ ও সংগ্রামের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে বলে জানান। আবেগঘন ও সমাজচেতনাম‚লক কবিতার জন্য পরিচিত তালুকদার লাভলী আধুনিক বাংলা কবিতার এক সংবেদনশীল কণ্ঠ। তার নতুন গ্রন্থে ভালোবাসা, বেদনা ও মানবতার মিশেলে উঠে এসেছে এ সময় ও সমাজের চিত্র।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট কবি তালুকদার লাভলী। যিনি তার আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী কবিতার জন্য পরিচিত। তিনি একজন আধুনিক কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে বাংলাসাহিত্যে গুরুত্বপ‚র্ণ ছাপ রেখেছেন। তার রচনাগুলো প্রায়ই ভালোবাসা, প্রকৃতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবজীবনের নানা দিক নিয়ে আবর্তিত হয়। যেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মর্ম ও সমকালীন জীবনের সংগ্রামগুলোকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

লাভলীর কবিতায় এক গভীর সংবেদনশীলতা ও চিত্রকল্পের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠকদের মনে অনুরণিত হয়। তিনি বেশ কয়েকটি প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলা সাহিত্যে তার অসামান্য অবদানের জন্য ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তার কাব্যকণ্ঠ যার বৈশিষ্ট্য লিরিকাল সৌন্দর্য ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি। আজও বাংলাদেশের সাহিত্য জগত কে অনুপ্রাণিত ও সমৃদ্ধ করে চলেছে। লেখালেখির ঝোঁক শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। সাম্প্রতিক সময়ে তার বহু গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। তার সঙ্গে কথা বললে স্পষ্ট হয়ে যায় লেখালেখির প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাস ও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কতটা গভীর। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমি কলম হাতে নিয়েছি সমাজের মুখোশপরা মুনাফালোভী শোষকদের মুখোশ উন্মোচন করতে। তাদের অমানবিকতা প্রকাশ করতে, মানুষকে শিক্ষিত করতে এবং নিরীহ ভুক্তভোগীদের এমন প্রতারণা থেকে মুক্তি দিতে। এ সময়ের মধ্যে তিনি পরিচিত মহলে এক ‘অঙ্গীকারবদ্ধ লেখক’ হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। যিনি শুধু সামাজিক সচেতনতার জন্যই নয় মানবিক দানশীলতার কারণেও শ্রদ্ধেয়। কারণ তার লেখালেখি থেকে প্রাপ্ত সব উপার্জন তিনি দান করেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায়।

তালুকদার লাভলীর সাহিত্যকর্মের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার লেখা উপন্যাস ‘পেট্রোদাসী’। যা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মজীবীদের জীবন ও সংগ্রামকে ভিত্তি করে রচিত। এছাড়া তার পরিচিত কবিতা ‘হে মহাশিশু’ সাহিত্য অঙ্গনে তার স্বতন্ত্র অবদানকে প্রকাশ করে।

আরো..