https://www.a1news24.com
৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৫০

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিনের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

টি.আই সানি ( শ্রীপুর) গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত অর্থে ডিভাইস ক্রয়ে অনিয়ম ও অর্থ তছরূপের অভিযোগ উঠেছে।

দুই বছর আগে সরকারের তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অদ্যাবধি প্রতিবন্ধীদের মাঝে কোন ডিভাইস বা টাকা বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে এসব অর্থ বিভিন্ন বিল ভাউচার দিয়ে উত্তোলন করা হলেও তালিকাভুক্ত একজন শিক্ষার্থীকেও বরাদ্দের টাকা বা ডিভাইস দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ আমরা এই টাকা বা বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই জানিনা।জানা যায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এ্যাসিসটিভ ডিভাইস ক্রয়ের জন্য শ্রীপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চতুর্থ প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচি( পিইডিপি-৪) সাব কম্পোন্যান্ট বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা” কার্যক্রম এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য এ্যাসিসটিভ ডিভাইস ক্রয়ের জন্য ৭০ হাজার টাকা সরকার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল ভাউচারের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় সম্পন্ন করা করলেও বাস্তবের চিত্র সম্পুর্ন ভিন্ন ও দুঃখজনক।

সরেজমিনে ডুমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ফারিয়া (রোল ১৬ ) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, নিজ মাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ওমর ও উজিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরি শারীরিক প্রতিবন্ধী ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী পাওয়া যায়।

কিন্তু এরা সরকারের (পিইডিপি-৪) কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণও জানেন না, শিক্ষা অফিসকে দেওয়া বরাদ্দ ও কেনাকাটার বিষয়ে। অন্যদিকে বরাদ্দ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে উপজেলা কমিটির মিটিং করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস বিতরণের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বিরুদ্ধেই। কমিটিতে কে কে আছে তাই অনেক সদস্য জানেন না।

এছাড়াও, বরাদ্দ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ ব্যয়ের বিবরনী web–bases computerizedAccounting system এ লিপিবদ্ধ করার নিয়ম থাকলেও শিক্ষা কর্মকর্তা তা করেন নি বরং সেখানেও ভুয়া তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নথি অনুযায়ী ৩০ শে জুন ২০২৬ এর পূর্বে ক্রয় সম্পন্ন করা হলেও বিতরণ করা হয়নি অদ্যাবধি।

উল্লেখ্য শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিনের অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ ইতিপূর্বে একাধিকবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেও বরাবরই নানা অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।

এসব ব্যাপারে ৩ আগস্ট সোমবার জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন জানান, আমি যা করছি সবই নিয়মনীতি অনুসরণ করেই করেছি। দেখতে চাইলে ২০২৫ সালের কোন ডকুমেন্ট দেখাননি।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে কোন মালামাল ক্রয় করা হয়নি। অথচ তিনি গাজীপুর সার্জিক্যাল হাউজ থেকে ১৫.০৩.২০২৬ তারিখ ২৫৬৬ নং ভাউচার ও ১৬.০৪.২০২৬ তারিখ ২৫৬৫ নং ভাউচার দিয়ে তিনি কেনাকাটা সম্পন্ন করে কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা প্রমাণ দেখালে তিনি হতচকিত হয়ে যান।

আরো..