রুকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি, পার্বতীপুর (দিনাজপুর):দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও পিচের আস্তরণ উঠে মাটি বের হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কাদা তৈরি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল হয়ে উঠছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কের গর্তগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি গেট থেকে রেলক্রসিং হয়ে বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে আরও প্রায় ২০০ ফুট সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও রাস্তার পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে অনেকটা একাকার হয়ে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, মধ্যপাড়া, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেলক্রসিং এলাকায় যানবাহন আটকে পড়া এবং সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বড়পুকুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. জহির বানিয়া বলেন, সড়কের একটি অংশের প্রায় আট শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে মামলা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিবনগর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ডা. স্বপনের সঙ্গে এ নিয়ে মামলা হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। জমির মালিক জায়গাটি দিতে আগ্রহী হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেটি সরকারি প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণ বা ক্রয় না করায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়কের বাসচালক আশরাফুল হক বলেন, “এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়। গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।” বড়পুকুরিয়া বাজারের মেসার্স জেমস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হারুনুর রশিদ মুকুল বলেন, “সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিয়ে যাতায়াতের সময় অভিভাবকদেরও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও ভারী যানবাহন এ এলাকায় চলাচল করে। ফলে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়কটির সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সড়কের একটি অংশের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান থাকায় সংস্কারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মামলাটি হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। জমির মালিক ওই জায়গায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাজ করতে বাধা দিয়ে আসছেন। সওজের প্রায় ছয় ফুট জায়গা রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে বসারও চেষ্টা করা হয়েছে।” নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দ থাকলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো টেন্ডার দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বড়পুকুরিয়া রেলক্রসিং এলাকার একই সড়কের বেহাল দশা এবং প্রায় আট শতক জমি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে মালিকানা-সংক্রান্ত মামলার কারণে কাজ আটকে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, চালক ও ভুক্তভোগীরা।