https://www.a1news24.com
২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:২৯

মোরেলগঞ্জে রাতের আঁধারে সংযোগ সেতুর রেলিং ভাঙচুর, আতঙ্কে গ্রামবাসী

ঝুঁকিতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচল

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি জন-গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুর রেলিং রাতের আঁধারে ভেঙে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে করে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিষখালী খালের ওপর নির্মিত সংযোগ সেতুটির এক প্রান্তের রেলিং শনিবার দিবাগত রাতে ভেঙে ফেলে রড কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম ভরসা হলেও এখন তা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে এলজিইডি দপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি রামচন্দ্রপুর, বর্ষিবাওয়া, কচুবুনিয়া, কামলা ও পোরেরহাটসহ অন্তত পাঁচ গ্রামের তিন থেকে চার হাজার মানুষের একমাত্র সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। উপজেলা সদরে যেতে হলেও অধিকাংশ মানুষকে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানগাড়ি এ পথ দিয়ে চলাচল করে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে। সেতুর পাশেই অবস্থিত ৩৫নং এন কে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। রেলিং ভেঙে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়াও রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী বাড়ি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আব্দুল খালেক শেখ, কৃষক শহিদুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন শেখসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, আগের দিন সকালেও সেতুর দুই পাশের রেলিং অক্ষত ছিল। যদিও এক পাশে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ছিল, কিন্তু রাতের আঁধারে পুরো রেলিং ভেঙে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, ধান কাটার একটি মেশিন রাত সাড়ে দশটার দিকে সেতু পার হওয়ার সময় আটকে পড়ে রেলিং ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে অনেকের অভিযোগ, একটি চক্র মাদকের অর্থ জোগাড় করতে রড কেটে নিয়ে বিক্রি করেছে।

ইউপি সদস্য আলমগীর শেখ বলেন, এর আগেও এক মাস আগে তার ওয়ার্ডের একটি কালভার্ট ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ইট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সেতুর রেলিং ভাঙার ঘটনা ঘটল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

৩৫নং এন কে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেবী রানী দেবনাথ বলেন, শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে স্কুলে আসে। রেলিং ভেঙে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। দ্রুত সেতুটি মেরামত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, সেতুর রেলিং ভাঙার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সেতুর রেলিং পুনর্নির্মাণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবহেলা বা বিলম্ব হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরো..