https://www.a1news24.com
২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৩৪

বাগেরহাটে রক্সি-১ হাইব্রিড ধান কাটার উৎসব ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষক, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলিগাতী দক্ষিণ পাড়া বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে রক্সি-১ হাইব্রিড ধান কাটার উৎসব ও “মাঠ দিবস-২০২৬”। বাম্পার ফলন, রোগবালাই কম হওয়া এবং সুস্বাদু চালের কারণে নতুন এ ধানের জাতটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্লেসিং এগ্রোভেট কোম্পানির বাজারজাত করা রক্সি-১ হাইব্রিড ধান ইতোমধ্যেই কৃষকের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলার কলিগাতী দক্ষিণ পাড়া বিলে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষি উদ্যোক্তা ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সোনালি ধানে ভরা মাঠ যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দেয় পুরো এলাকায়।

অনুষ্ঠানে ব্লেসিং এগ্রোভেট কোম্পানির হেড অব বিজনেস কৃষিবিদ ড. গোলাম মাবুদ বলেন, রক্সি-১ হাইব্রিড ধান প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় এক মণ পর্যন্ত ফলন দিচ্ছে, যা কৃষকের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বর্তমান সময়ে উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক ধানের জাত হিসেবে এটি কৃষকদের জন্য বিশেষ সম্ভাবনাময়।

স্থানীয় কৃষক ফজর শেখ বলেন, তিনি ২ একর ৫০ শতক জমিতে রক্সি-১ হাইব্রিড ধান আবাদ করেছেন। মাঠে যে পরিমাণ ধান ফলেছে তাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি জানান, এমন ফলন পেয়ে তিনি খুবই খুশি।

কৃষক এজাবুর মোল্লা বলেন, তিনি ৫ একর জমিতে রক্সি-১ হাইব্রিড ধান চাষ করেছেন। প্রতি শতাংশে এক মণেরও বেশি ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় কৃষক রফিক শেখ বলেন, তিনি ৪ একর জমিতে এ ধান আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের ধান চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন।

এসময় কোম্পানির সিনিয়র সেলস ম্যানেজার মো. শহীদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট এরিয়া ম্যানেজার মো. জামাল হোসেন মোল্লা বলেন, কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে ব্লেসিং এগ্রোভেট উন্নতমানের ও অধিক ফলনশীল ধানের জাত নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে রক্সি-১ হাইব্রিড ধান অসাধারণ ফলন দিয়েছে। আগামীতে আরও নতুন ও উন্নত জাতের ধান কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, রক্সি-১ হাইব্রিড ধানের গাছ মাঝারি উচ্চতার ও শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম হয়। ফলে কৃষক যেমন বেশি লাভবান হন, তেমনি খাদ্য উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ জাতের ধান।

চিতলমারীর কৃষকদের মতে, সঠিক সময়ে উন্নত বীজ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটতে পারে। রক্সি-১ হাইব্রিড ধান সেই সম্ভাবনারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আরো..