https://www.a1news24.com
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৩৮

কাউখালীতে চরাঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক তরমুজ চাষে বিপ্লব

কাউখালী(পিরোজপুরর)সংবাদদাতা: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে তরমুজের। উপযুক্ত আবহাওয়া ও বালি মিশ্রিত মাটি হওয়ায় উপজেলার চিরাপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সুবিদপুর ও কেশরতা চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৮৬ একর জমিতে চাষ হয়েছে তরমুজ।

বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজের উচ্ছ¡াস। যতদূর চোখ যায়, সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সবুজ ছোট-বড় আকারের তরমুজ।বালুমাটি ভেদ করে গজিয়ে ওঠা চারাগুলো মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ফলে ভরে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে, যেন মাটির ভেতর সারি সারি তরমুজ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রোদ,বৃষ্টি সর্বোপরি আবহাওয়া ঠিক থাকলে ফলনের ব্যাপারেও বেশ আশাবাদী কৃষকরা।

তবে,তরমুজের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ভরা মৌসুমে তরমুজের দাম পড়ে যাওয়াই এর কারণ।রোজার পর উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কমে যাওয়ায় তরমুজের দাম কমেছে। উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরে সুবিদপুর ও কেশরতা গ্রামের বিস্তীর্ণ এসব চরের জমি এক সময় রবি মৌসুমে খালি পড়ে থাকতো। কৃষি অফিসের প্রচেষ্টায় বর্তমানে এই জমিতে এখন তরমুজ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা তরমুজ চাষি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন তরমুজ চাষি কাউখালীর ৮৬ একর চর বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেন। বছরের একবার ধান আবাদ করার পরে অধিকাংশ সময় এসব জমি পরিত্যক্ত থাকলেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগ এবং এসএসিপি প্রকল্পের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে সেখানে লাভজনক আবাদ সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ, বাছাই ও বাজার জাতকরণের কাজে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং পরিকল্পিত পরিচর্যার কারণে এ বছর ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দামও পেয়েছেন ভালো।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে নতুন করে পলি ও জৈব সার প্রয়োগ করায় মাটির উর্বরতা বেড়েছে। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ ব্যবহারের ফলে তরমুজের আকার, স্বাদ ও মিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে।এ অঞ্চলের সম্ভাবনামী ফসল হিসেবে দেখা দিচ্ছে তরমুজ।

উপক‚লীয় এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী এবং কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে গ্রীষ্মের এই ফল চাষে।

আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারেও রয়েছে এসব তরমুজের বেশ চাহিদা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি ক্ষেত থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায়।

চাষি কালাম হোসেন বলেন, তরমুজ চাষে খরচ কম ও তুলনামূলক সহজ। গাছগুলোর একটু বাড়তি যতœ করতে হয়, এতে ফলন ভালো হয়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক সেবা পেয়ে থাকেন বলেও জানান চাষি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোমা রানী দাস বলেন, কৃষকদের অনাবাদি জমি আবাদে আনতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখানকার মাটি ও জলবায়ু তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে আরো কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে এ তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

আরো..