বেপরোয়া যান চলাচলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, উদ্বেগ স্থানীয়দের
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড-কচুয়া সড়কের নরেন্দ্রপুর রাস্তার মাথায় ইটবোঝাই ট্রাক ও একটি অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন নাজিরপুর উপজেলার জুসখোলা এলাকার মো. সাব্বির (২৮) এবং কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকার মো. বাদল (৫৪)। আহত অপর দুইজন বর্তমানে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি অটোভ্যান নরেন্দ্রপুর এলাকার দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ইটবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা চারজনই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে আহতদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির ও বাদল মারা যান।
এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাইনবোর্ড-কচুয়া সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে ট্রাক, মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এবং চালকদের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে, যা আরও অনেক পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেবে।