https://www.a1news24.com
২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৫৭

বেহাল সড়কে স্থবির জনজীবন, কাউনিয়াবাসীর দুর্ভোগ চরমে

প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ একাধিক পাকা সড়কে ভয়াবহ ভাঙন ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা সড়ক এক হাঁটু কাদায় ডুবে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর এমন বেহাল অবস্থার পরও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংস্কার ও কার্পেটিং করা কাউনিয়া-টেপামধুপুরহাট সড়কটি নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই অন্তত ১১টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে পাশ ধসে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে উপজেলার দীর্ঘতম ভায়ারহাট-রংপুর (নব্দীগঞ্জ) প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কটি অতিবৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের চাপে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে সানাইমোড়- নিজপাড়া মসজিদ, হারাগাছ বকুলতলা-একতাবাজার, হলদীবাড়ি রেলগেট-তকিপলহাট, সাহাবাজ মাদ্রাসা-কাউনিয়া থানা, বালিকা বিদ্যালয় মোড়-রেলওয়ে স্টেশন, তালতলা-কালিরহাট, তকিপলহাট-বুদ্ধির বাজার, বেইলি ব্রিজ-শহীদবাগ ইউনিয়ন পরিষদ, মীরবাগ বটতলা-আরকে রোড, গুলশান বাজার-বকুলতলা বাজার, সাহাবাজ মসজিদ-আমতলা এবং মুজিবনগর-খোপাতি উচ্চবিদ্যালয় সড়কেও। এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

রিকশাচালক আনারুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার প্রায় সব রাস্তাই ভাঙা। গর্তে পড়ে প্রায়ই রিকশা ও অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পাশাপাশি দরিদ্র চালকদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।”

টেপামধুপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বুলবুল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রæত সংস্কার করা না হলে পুরো সড়কই নষ্ট হয়ে যাবে এবং জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “টেপামধুপুর, খানসামা ও তকিপলহাটে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। সড়কের ভাঙনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী আঃ রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রæত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রæত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ভাঙন রোধ ও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

 

আরো..