https://www.a1news24.com
৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:২৪

লাইভে এসে কাঁদলেন জ্যোতি; বললেন, ‘বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি’

একসময় টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ। কিন্তু সোমবার ( ৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ক্যামেরার সামনে দেখা গেল একেবারে অন্য জ্যোতিকা জ্যোতিকে। চোখভরা পানি, কণ্ঠে অসহায়ত্ব আর বারবার একই অভিযোগ- কাজ নেই, চারপাশে অনিশ্চয়তা, আর পরিকল্পিতভাবে তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। আবেগের চূড়ান্ত মুহূর্তে বলে ফেললেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে আছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। তার দাবি, কেউ তাকে অভিনয়ের জন্য ডাকছে না। বিভিন্ন জায়গায় তাকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করে রাখা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। এসবের চাপ আর সহ্য করতে না পেরে সোমবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।

লাইভে জ্যোতিকা জানান, তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত এবং নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় মনে করছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়ে ট্রল, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। শুধু সামাজিক মাধ্যমেই নয়, পেশাগত জীবনেও তিনি নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।

অভিনেত্রীর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাকে কাজ থেকে দূরে রাখছে। তবে সেই গোষ্ঠীর নাম তিনি প্রকাশ করেননি। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না বলেও জানান। এর ফলে একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে জ্যোতিকা বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন, প্লিজ।’

জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় আসেন জ্যোতিকা জ্যোতি। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে।

পরে ফেসবুক লাইভে এসে সেই ঘটনার নিজের বর্ণনা দেন অভিনেত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে অফিসে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবু দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অফিসে যান। সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ দেখে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

আরো..