বিনোদন ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজের ছবি বা পরিচয় দিয়ে ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক বার্তায় মৃণাল জানান, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি, তবে এটি সংশ্লিষ্টদের জন্য তার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।
বার্তায় অভিনেত্রী লেখেন, `আমার ছবি, চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি কিংবা শেয়ার করা বেআইনি এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটিকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ হিসেবে বিবেচনা করুন এবং অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করুন। এরপরও যদি আমার পরিচয়ের অপব্যবহার করা হয়, তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তারকাদের মুখ বা পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে নিজেদের পরিচয়, ছবি ও ব্যক্তিসত্তার অধিকার রক্ষায় ভারতের বেশ কয়েকজন তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন অক্ষয় কুমার, বরুণ ধাওয়ান, অনিল কাপুর, শিল্পা শেঠি, প্রীতি জিনতা, কার্তিক আরিয়ান, সুনীল শেঠিসহ আরও অনেকে। অননুমোদিতভাবে এআই ব্যবহার করে তাদের পরিচয় ও ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে তারা আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে একই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। নারীদের লক্ষ্য করে এআই দিয়ে অশ্লীল ও ক্ষতিকর ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছিলেন, যখন সত্যকেও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায়, তখন সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ক্ষমতাই আমাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
রাশমিকা সেসময় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল যুগে অনলাইনে দেখা কোনো ছবি বা তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। তার মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।