https://www.a1news24.com
২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৮

রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের জমির আবদার নাকচ, দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরও জমি বরাদ্দ চেয়েছে জাতিসংঘ। তবে দেশের সীমিত সম্পদ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে জাতিসংঘের এই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

আজ শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তার নৃশংসতার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পূর্বে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।

সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় নতুন করে আরও কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ওপর চাপ কমাতে এবং আশ্রিতদের মানবিক সহায়তার পরিধি বাড়াতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আরও কিছু জমি বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিগত প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে নতুন করে আর কোনো জমি দেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও সীমিত ভূখণ্ডের দেশের পক্ষে দীর্ঘ মেয়াদে এত বড় জনগোষ্ঠীর চাপ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার অঞ্চলে ইতোমধ্যে ব্যাপক বনভূমি উজাড় হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে নানা সামাজিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ দিলে তা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে থেকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) নিউইয়র্কে মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রোহিঙ্গারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।” দীর্ঘায়িত এই সংকট বাংলাদেশের ওপর বিশাল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে দ্রুত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন কোনো জমি বরাদ্দ বা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বেগবান করা।

আরো..