https://www.a1news24.com
২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৫

সিলেটে শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অবমাননার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে

ভগবান শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সিলেটে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যৌথভাবে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা। মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল বারবার এ দেশের শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত হানছে। গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকাশ্যে মন্দির ভাঙার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি যে অবমাননাকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং দেশের সংবিধান ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর চরম কুঠারাঘাত। বক্তারা আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করছেন। অথচ কুচক্রী মহল সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়।

মানববন্ধন থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে তীব্র দাবি জানিয়ে বলেন, অতীতে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই আজ অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী এবং মন্দির ভাঙচুরের হুমকির সাথে জড়িত মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের জঘন্য কাজ করার দুঃসাহস না দেখায়। একই সাথে দেশের প্রতিটি উপাসনালয়, সংখ্যালঘু পরিবার এবং তাদের জানমালের স্থায়ী ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ এর সভাপতিত্বে এবং পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জন ঘোষ ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাসের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা। বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মলয় পুরকায়স্থ। বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের জাতীয় পরিষদের সদস্য সুব্রত দেব, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ পাল, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, সিলেট প্রেসবিটারিয়ান মিশনমন্ডলীর সভাপতি ডিকন নিঝুম সাংমা, মহানগর পূজা পরিষদের কোষাধক্ষ্য জিডি রুমু, জেলা পূজা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শৈলেন কর, জেলা যুব ঐক্যের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ সেন, মহানগর যুব ঐক্যের আহবায়ক রকি দেব, ছাত্র ঐক্য জেলার আহ্বায়ক মিথিল পাল কান্ত, মহানগর পূজা পরিষদ সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ বিশ্বাস, পূজা পরিষদের শাহপরান থানার সভাপতি বিরেশ দেবনাথ, ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখময় বিশ্বাস যাদব, কোতোয়ালি থানা পূজা পরিষদের সভাপতি এডভোকেট অরবিন্দু দাস গুপ্ত বিভু, দীপক কুমার দাস, নন্দন চন্দ্র পাল, সঞ্জয় পাল, যুগল কৃষ্ণ গোস্বামী প্রমুখ।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ সিলেট জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দসহ শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

আরো..