https://www.a1news24.com
২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৫৫

জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, চার স্তরের নিরাপত্তা

নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। রাতের আঁধার পেরিয়ে রক্তিম সূর্যোদয়ের প্রহর গুনছে গোটা জাতি। সূর্যের কিরণে ঝলমলে আলোয় বীর শহীদদে শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতিসৌধ। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত করতে মাসব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রস্তুত করা হয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। যাদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা, তাদের স্মরণে ১০৮ হেক্টর সবুজের ক্যানভাসে এখন লেগেছে রং-তুলির নিপুণ আঁচড় ও বর্ণিল আলোকসজ্জার সজ্জা। স্মৃতিসৌধের পবিত্র শহীদ বেদী অপেক্ষায় আছে লাখো মানুষের ফুলেল ভালোবাসার চাদরে ঢেকে যাওয়ার। এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে, ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে, এই পবিত্র অঙ্গনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত গার্ড অব অনার প্রদানের পর শ্রদ্ধা জানাবেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এরপরই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে স্মৃতিসৌধের দ্বার। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো মানুষের ঢল নামবে, যারা তাদের হৃদয়ের শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদ বেদীকে পরিণত করবে ফুলের এক বিশাল চাদরে। প্রবীণদের সঙ্গে আগামী প্রজন্মও একই কাতারে দাঁড়িয়ে জাতির সূর্যসন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

দীর্ঘ এক মাস ধরে শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবিড় যত্নে সাজিয়েছেন স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। সাভার গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা সৌন্দর্যবর্ধনসহ নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্মৃতিসৌধের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গর্বিত কণ্ঠে বলেন, “আমরা হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি, কিন্তু যাদের আত্মত্যাগে আমরা পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি, স্মৃতিস্তম্ভসহ তাদের কবরের পরিচর্যা আমরা করতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।”

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “লাল-সবুজ ফুলের সমারোহে ছোট বাগানগুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়েছে নতুন রংতুলির আঁচড়। এছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকার সড়কগুলো সেজেছে বাহারি রঙের বাতিতে।”

বিজয়ের এই পুণ্যভূমিতে আগত লাখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এবারের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ১৩টি সেক্টরের মাধ্যমে ৪ হাজার পুলিশের ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গোটা সৌধ এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দিতে সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি। ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা চৌকি। কয়েকশ’ নিরাপত্তাকর্মী এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে নির্বিঘ্নে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরিবেশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা একে একে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। লাখো মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে জাতি।

আরো..