স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন ডাকেটের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিল ইংল্যান্ড। ইংলিশেদের সেই রেকর্ড বেশিক্ষণ টিকতে দিল না অস্ট্রেলিয়া। জস ইংলিশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে অজিরা। অবশ্য তাতেও বি গ্রুপে শীর্ষে উঠা হলো না অজিদের। কেননা আফগানিস্তানকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘বি’ গ্রুপে রান রেটে এক নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩৫১ রান তোলে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল নিউজিল্যান্ডের। ২০০৪ আসরে ওভালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৩৪৭ রান করেছিল তারা। জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হত নতুন রেকর্ড। আর অস্ট্রেলিয়া তা করেও দেখিয়েছে। ৪৭.৩ ওভারে ইংল্যান্ডের রেকর্ড তাড়া করে তারা। ৫ উইকেটে ৩৫৬ রান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রানতাড়ার রেকর্ডটিও এখন অস্ট্রেলিয়ার। এর আগে ২০১৭ আসরে ওভালে ভারতের ৩২১ রান তাড়া করেছিল তারা ৪৮.৪ ওভারে। দুই ইনিংস মিলিয়ে রান হয়েছে ৭০৭। যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল। ভারত ও শ্রীলঙ্কার, ২০১৭ আসরে ওভালে দুদল মিলে ৬৪৩ রান হয়েছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই ম্যাচে নামার আগে ২৭টি ওয়ানডে খেলেছিলেন জশ ইংলিশ। ২৮তম ম্যাচেই সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। আটটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৮৬ বলে ১২০ রানের অপ্রতিরোধ্য ইনিংস খেলেছেন তিনি। এছাড়া অ্যালেক্স ক্যারি ৬৩ বলে ৬৯ এবং ম্যাথিউ শর্ট ৬৬ বলে ৬৩ রান করেন। মার্নাশ লাবুশেনের ব্যাট থেকে আসে ৪৫ বলে ৪৭ রান, আর শেষদিকে ১৫ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল। ইংল্যান্ডের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মার্ক উড, জফরা আর্চার, ব্রাইডন কার্স, আদিল রশিদ ও লিয়াম লিভিংস্টোন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশদের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দলীয় ১৩ রানেই আউট হন ওপেনার ফিল সল্ট। এরপর তিনে ব্যাট করতে নামা জেমি স্মিথও সাজঘরে ফিরেন দলীয় ৪৩ রানে। তবে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও ইংলিশরা বড় সংগ্রহের দেখা পেয়েছে মূলত বেন ডাকেটের সঙ্গে জো রুটের ১৫৮ রানের বড় জুটির সুবাদে।
এ দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েছিলেন ১৫৮ রানের জুটি। এ জুটিতেই দলীয় ২০১ রানের সংগ্রহ পার করে ইংলিশরা। দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে ৬৮ রান করে আউট হন রুট। তবে রুট ফিরলেও নিজের শতকের দেখা পেয়েছেন ডাকেট। ৯৫ বলে ১০০ রান করা ডাকেট শেষ পর্যন্ত খেলেছেন ১৪৩ বলে ১৬৫ রানের ইনিংস। দলীয় ৩২২ রানে মার্নাস লাবুশেনের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন ডাকেট।
এরপর জোফরা আর্চারের ১০ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৫১ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে ইংল্যান্ড। অজিদের হয়ে বল হাতে ৩ উইকেটের দেখা পেয়েছেন বেন দারশুইস।