https://www.a1news24.com
৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:০২

‘মুখ ও মুখোশ’: এই সিনেমার মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পথচলা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ‘মুখ ও মুখোশ’ একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি ছিল দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সবাক চলচ্চিত্র। আর এই সিনেমার মধ্যে দিয়েই মাধ্যমেই যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের। এটি কেমন একটি একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ঐ সময়ে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নির্মাণ কিন্তু সহজ ছিল না। সিনেমাটি নির্মানের পেছনে আছে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য গল্প। ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে এক সভার আয়োজন করেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালক ড. আবদুস সাদেক। সভায় গুলিস্তান সিনেমা হলের মালিক খানবাহাদুর ফজল আহমেদ (কিছু সূত্রে ফজলে দোসানী) দাবি করেন, পূর্ব পাকিস্তানের আর্দ্র আবহাওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব নয়। এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন নাট্যকর্মী আবদুল জব্বার খান। তিনি বলেন, “এখানে যখন ভারতীয় সিনেমার শুটিং হয়েছে, তখন বাংলা সিনেমা কেন নির্মাণ করা যাবে না?” সেদিনই তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই সাহসী সিদ্ধান্ত থেকেই জন্ম নেয় ‘মুখ ও মুখোশ’, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবদুল জব্বার খান তার নিজের লেখা ‘ডাকাত’ নাটক অবলম্বনে চিত্রনাট্য তৈরি করেন। সীমিত প্রযুক্তি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শুটিং সম্পন্ন হয় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। পরে লাহোরের শাহনুর স্টুডিওতে সম্পাদনা ও প্রিন্টের কাজ শেষ করে ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট সিনেমাটি মুক্তি পায়।

‘মুখ ও মুখোশ’ ছিল শুধু আবদুল জব্বার খানের নয়, বরং একদল স্বপ্নবাজ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস। সংগীত পরিচালনা করেন সমর দাস, গান করেন আবদুল আলীম ও মাহবুবা হাসনাত এবং নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন গওহর জামিল। অভিনয়ে ছিলেন আবদুল জব্বার খান, পূর্ণিমা সেনগুপ্ত, জহরত আরা, পিয়ারী বেগম ও ইনাম আহমেদসহ অনেকে। তাদের অনেকেরই চলচ্চিত্রে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না; কেউ কেউ পারিশ্রমিক ছাড়াই দেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নে যুক্ত হন।

১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে জমকালো আয়োজনে মুক্তি পায় ‘মুখ ও মুখোশ’। একই দিনে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাতেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। সিনেমাটি মুক্তি পর দর্শক অভূতপূর্ব সাড়া প্রমাণ করে, বাংলাদেশেও সিনেমা সম্ভব। সাত দশক পেরিয়েও ‘মুখ ও মুখোশ’ শুধু সিনেমা নয়, এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্নপূরণের এক অনন্য প্রতীক।

আরো..