স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (র.)এর মাজার সংলগ্ন খাঞ্জেলী দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি অপসারণ করেছে প্রশাসন। বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ কৌশলে খাবার দিয়ে কুমিরটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে কুমিরটিকে সফলভাবে বেঁধে দিঘি থেকে তুলে আনা হয়। এরপর একটি বিশেষ গাড়িতে করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে খাঞ্জেলী দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমির অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপাতত কুমিটি খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কুমিরের বিষয়ে চুড়ান্ত জানাবেন।
গত সোমবার রাত ৮টা দিকে মাজার সংলগ্ন খাঞ্জেলী দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা (৮) নামে এক শিশু কুমিরের আক্রমণের নিহত হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং কুমিরটি দ্রæত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বনবিভাগ, সাংবাদিক, মাজারের খাদেম ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীঘিতে থাকা কুমিরটি অপসারনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।