https://www.a1news24.com
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৩৭

দেশে বছরে প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৬৭ জনের মৃত্যু ঘটে

ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-এর ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশে রোডক্র্যাশে ৩১ হাজার ৫৭৮ জন নিহত হয়। এশিয়ান ট্রান্সপোর্ট অবজারভেটরির ২০২৫ সালের রোড সেফটি প্রোফাইল অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রতি ১ হাজার কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৬৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আয়োজনে ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ এবারের আলোচ্য বিষয় “গতি নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্দেশীকা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এ তথ্য জানান ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী রাডক্র্যাশে মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত গতি দায়ী। বাংলাদেশে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ রোডক্র্যাশ অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে ঘটে। রোডক্র্যাশে নিহতদের ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং মোটরসাইকেল চালক, যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার শুভ্র দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ভোরের আওয়াজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু, দৈনিক যুগান্তরের ক্রাইম ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল গফ্ফার, ঢাকা পোস্টের চিফ অব ক্রাইম এন্ড আরবান এ্যাফেয়ার্স জসিম উদ্দীন ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ তোফাজ্জল হোসাইন কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোঃ মোখলেছুর রহমান।

রোডক্র্যাশের বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে রোডক্র্যাশে প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার (১.১৯ মিলিয়ন) মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এছাড়াও মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে। রোডক্র্যাশ সব বয়সী মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১২তম প্রধান কারণ। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন রোডক্র্যাশ।

এসময় রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি কমাতে বক্তারা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো: ১. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গাইডলাইন/ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. যানবাহনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্পিড গভর্নর সিল’ স্থাপন করতে হবে, যাতে চালক অতিরিক্ত গতিতে যান চালাতে না পারেন। এবং ৪. পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ও যানবাহন নিশ্চিত করতে সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরো..