ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, ইসলামের অন্যতম বিধান পর্দা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার এখতিয়ার জনগণ কাউকে দেয়নি। তিনি বলেন, হিজাব, নিকাব ও বোরকা ইসলামের বিধান এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদাবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নারীর পোশাক নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক। ইসলামের বিধি বিধান নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। এর পূর্বেও দলের একজন নারী সংসদ সদস্য জাকাত নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে ধর্মীয় অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তোলে। এভাবে ইসলামের বিধি বিধান নিয়ে ধারাবাহিক মন্তব্য ইসলামের বিরুদ্ধে চরম আঘাত। এধরণের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে মনিরুল হক চৌধুরীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পল্টন থানা শাখার উদ্যোগে সোমবার রাতে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে থানা ও ওয়ার্ড তৃণমূল দায়িত্বশীল মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পল্টন থানা সভাপতি আলহাজ্ব কবির হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে এবং জয়েণ্ট সেক্রেটারী মাওলানা ফয়েজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৮ এর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির হোসেন। বক্তব্য রাখেন, পল্টন থানা বামুক ছদর আলহাজ্ব মমিনুল হোসাইন, মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ মহারাজ ফরাজি, যুবনেতা আকাশ হাওলাদার,ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সিফাতুল্লাহ বিন হাবিব।
সভায় জয়েণ্ট সেক্রেটারী মাওলানা ফয়েজ আহমদকে সেক্রেটারী ও মাওলানা আমির হোসাইনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে পল্টন থানার দু’টি পদে রদবদল করা হয়।মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে এ ধরনের বিদ্রূপাত্মক ও অশোভন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দায়িত্বশীল আচরণের পরিপন্থী। নারীর ধর্মীয় পোশাককে উপহাসের বিষয় বানানো সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে মানায় না। বোরকা ও হিজাব মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অধিকার। এ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতা মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৃত্য ও গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিরানব্বই ভাগ মানুষের চিন্তা চেতনাকে পাশ কাটিয়ে বিদেশিদের ইশারায় প্রাইমারিতে নৃত্য ও গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় সর্বত্র প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠবে।