বিনোদন ডেস্ক: রং শুধু চোখে দেখা সৌন্দর্য নয়; রং মানুষের বেঁচে থাকারও ভাষা। আনন্দ–দুঃখ, ভালোবাসা, ভয়, আশা, প্রতারণা, সবকিছুরই নিজস্ব রংআছে।তেমনি সত্য-মিথ্যারও রঙ আছে। পার্থক্যটা শুধু সত্যের রঙ একটাই।
কারণ তাকে আর ইচ্ছেমতো বদলানো যায় না। সত্য তাই অনেকটা স্থির।‘রঙিন সুরমা’ গল্পের চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক রিয়াজুল হক ইমরানের চিন্তায় সত্য ধূসর।
আর মিথ্যা ঠিক তার উল্টো।
মিথ্যার অনেক রং। একটি মিথ্যাকে বাঁচিয়ে রাখতে আরেকটি মিথ্যা বলতে হয়। কখনো তা ভালোবাসার মতো কোমল, কখনো আনন্দের মতো উজ্জ্বল, কখনো আত্মরক্ষার মতো প্রয়োজনীয়, কখনো বিধ্বংসী। এই রং বদলাতে বদলাতেই মানুষের জীবনের গল্প এগিয়ে যায়। আর এই জায়গা থেকেই গল্পের ‘সুরমা’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গল্পের নাম ‘রঙিন সুরমা’ হওয়ার কারণ জানাচ্ছিলেন নির্মাতা।
১২ আগস্ট রাত ১২টায় (১৩ আগস্ট) চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে চরকি ফ্লিক ‘রঙিন সুরমা’। এর দুটি চরিত্র মুন্তাসির ও শাহিদার জীবনও অনেকটা সেই সুরমার মতো। তাদের জীবনের বাস্তবতা ধূসর। বয়স, সময়, সম্পর্ক, না-পাওয়া, ভয় এবং অনিবার্য কিছু সত্য তাদের ঘিরে আছে। কিন্তু সেই ধূসর জীবনের মধ্যেই তারা কিছু রঙিন মুহূর্ত তৈরি করে নেয় কিছু সত্য গোপন রেখে। কারণ সব সত্য সবসময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনো কখনো একটি মিথ্যা মানুষকে তার প্রিয় মানুষটির পাশে থাকার সুযোগ দেয়, একটি সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে, কিংবা জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে সাহায্য করে। ‘রঙিন সুরমা’ তাই আসলে একটি বৈপরীত্যের নাম। ধূসর জীবনের চোখে মানুষ যে সামান্য রঙটুকু এঁকে নেয়, সেই রঙের নামই ‘রঙিন সুরমা’,” বলেন রিয়াজুল হক ইমরান।
সীমিত দৈর্ঘ্যের চরকি অরিজিনাল এই কনটেন্টে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় ও গুণী অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি। মূলত গল্প শুনেই কাজটি করতে চেয়েছেন তারা। গল্প, সহ-শিল্পী ও নির্মাতা নিয়ে আফসানা মিমি বলেন, ইমরান (নির্মাতা) যখন স্ক্রিপ্ট পাঠালেন, প্রথমেই নামটা দৃষ্টি কেড়েছিল, ‘রঙিন সুরমা’। স্বাভাবিক আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম—শেষ করেছি চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটা হলো। এখন দেখার অপেক্ষা।
অভিনেতা আফজাল হোসেনকে নিয়ে আফসানা মিমির ভাষ্য, আফজাল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই খুব আনন্দের। যাকে পর্দায় দেখে ভালোবেসেছি। তার সঙ্গে কাজ করতে যাই যখন, তখন ভীষণ রোমাঞ্চিত হই। প্রতিবার মনে হয়, আহা কী সৌভাগ্যবান আমি! আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করছি! আর আফজাল ভাই সবকিছু এত সহজ করে দেন, বন্ধুর মতো।
আফসানা মিমি জানান, ইমরান ভীষণই নিবেদিতপ্রাণ, প্রতিটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগী, অনেক খুঁতখুঁতে। ক্যারেক্টার জার্নি ও শুটিং নিয়ে ঝগড়াও নাকি হয়েছে দুজনের! আফসানা মিমি খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন ‘রঙিন সুরমা’ দেখার জন্য।
আফজাল হোসেনও ‘রঙিন সুরমা’র পাণ্ডুলিপিটা পড়ার পর কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, দুজন মানুষ ও একটা সংকট নিয়ে গল্প। তারা বয়স্ক মানুষ। আজকাল মানুষের মন মাতানোর জন্য গরমাগরম গল্পের চাহিদা অনেক। এমন সময়ে কেউ যদি ঠান্ডা মেজাজের, শিরশির করা অনুভূতির কোনো গল্প পর্দায় হাজির করতে চায়, সে ভাবনাকে বিশেষ ভাবতেই হয়। সেটা ভেবেই আগ্রহ নিয়ে অভিনয় করা। রিয়াজুল হক ইমরান নির্মিত ‘রঙিন সুরমা’র আবেগ আশা করি দর্শকের আবেগ স্পর্শ করতে পারবে।
বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে দেশের মিডিয়াঙ্গনে খুব কম কাজ হয়। ‘রঙিন সুরমা’র মাধ্যমে চরকি কিছুটা হলেও প্রথার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানান প্ল্যাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন, রঙিন সুরমা খুব ইমোশনাল একটা কাজ। সব বয়সী দর্শকরাই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে কনটেন্টটি রিলেট করতে পারবেন। গুণী দুই অভিনয়শিল্পী নিয়ে বলার কিছু নেই। তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে অনুভূতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
নির্মাতা জানান, ‘রঙিন সুরমা’ দর্শককে খুব পরিচিত অথচ অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া একটা জীবনের কাছে নিয়ে যাবে। মানুষ যে জীবনকে এত স্বাভাবিক বলে পাশ কাটিয়ে যায়, তার ভেতরেই কি আসলে বেঁচে থাকার সবচেয়ে গভীর কারণগুলো লুকিয়ে থাকে? যদি দর্শকের মনে এই প্রশ্নটা কিছুক্ষণ থেকে যায়, তাহলে সেটাই ‘রঙিন সুরমা’র সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে বলে মনে করেন রিয়াজুল হক ইমরান। তিনি বলেন, রঙিন সুরমা’ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকের জন্য নয়; বরং বয়সভেদে গল্পটি দর্শকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ তৈরি করবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন বদলে যায়। মৌলিক চাহিদা সীমিত হয়ে আসে, পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, হারানোর ভয়ও অন্যরকম হয়ে যায়। তার সঙ্গে যুক্ত অসুস্থতা, বয়সের সীমাবদ্ধতা, একাকিত্ব এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তি। এত কিছুর পরও জীবনের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া দুজন মানুষ কীভাবে সমস্ত সীমাবদ্ধতা, ক্ষয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেয়, মুন্তাসির ও শাহিদার মধ্য দিয়ে সেটাই দেখাতে চেয়েছেন নির্মাতা।