https://www.a1news24.com
১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৮

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ ছাত্র মিশনের

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র মিশন। ছাত্রমিশন মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।

আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোঃ মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম মামুন বলেন, একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মানসম্মত শিক্ষা। আর মানসম্মত শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক। অতীতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জাল সনদের মতো নানা অভিযোগ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয়ভাবে মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে পদায়ন, বদলি সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধীরগতির মতো সমস্যাগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এসব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে যদি শিক্ষক নিয়োগের মূল ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা হবে সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করার শামিল।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও বাড়বে। এর ফলে শুধু একজন যোগ্য প্রার্থীই বঞ্চিত হবেন না, বরং একজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর।

ছাত্র মিশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে শিক্ষাখাতসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে নতুন করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা কোনোভাবেই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারে না। বরং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তারা বলেন, নিয়োগ ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলে তা সংস্কার করতে হবে, কিন্তু মেধাভিত্তিক নিয়োগ কাঠামোকে দুর্বল করে নয়। এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি দ্রুত নিয়োগ, যৌক্তিক পদায়ন এবং সুনির্দিষ্ট বদলি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আরো..