যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির টেলিগ্রাম বার্তায় এ দাবি করা হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও হামলা চালায়, তাহলে ইরানের জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে। বার্তায় বলা হয়, ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই জাহাজে হামলার পেছনে তেহরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার ঘটনাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রশমনের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার একটি প্রাথমিক সমঝোতা ছিল।