ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের বছরে দেশের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড। কিন্তু মূল মঞ্চে এসে সেই খরা কাটালেন দুর্দান্তভাবে। তার কাঁধে ভর করেই ইরাককে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন উদযাপন করল নরওয়ে।
ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ‘আই’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ে ৪-১ গোলে জয় পায়। দলের হয়ে দুটি গোল করেন হলান্ড, একটি গোল করেন লিও আস্টিগোর।ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, এই নরওয়ে দলটি টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ হয়ে উঠতে পারে। দাপুটে এই জয়ে তারা সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। এদিনের শুরুর একাদশের পাঁচজন তখন জন্মই নেয়নি, তার মধ্যে একজন হলান্ড নিজেও।
ম্যাচের ২০তম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। তবে ভালো পজিশনে থেকেও তার হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। এরপর অবশ্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে।
প্রথম কুলিং ব্রেকের পর খেলা শুরু হতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে আসা এক ক্রস থেকে স্লাইডিং শটে বল জালে পাঠান হলান্ড। এটি ছিল তার জাতীয় দলের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৫৬তম গোল।
এরপর ১০ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় ইরাক। বাঁ দিক থেকে আসা কাটব্যাক পাসে দারুণ এক হেডে গোল করেন আইমেন হুসেইন। এটি তার জাতীয় দলের ৩৩তম গোল।
তবে চার মিনিটের ব্যবধানে আবারও পিছিয়ে পড়ে ইরাক। গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুল পাস ক্লিয়ারেন্স কাজে লাগিয়ে বল ছোঁয়েন হলান্ড। সেই মুহূর্তে শট নিতে গিয়ে বল তার পায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইরাক। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আকরাম হাশিমের শক্তিশালী ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতে খেলার গতি কিছুটা কমে যায়। বিরতির পর লিও আস্টিগোর কর্নার থেকে হেডে গোল করে নরওয়ের ব্যবধান বাড়ান।
শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন হলান্ড। তবে গোলরক্ষক তার কোনাকুনি শট রুখে দেন।
ম্যাচের শেষভাগে আত্মঘাতী গোলে আবারও পিছিয়ে পড়ে ইরাক। গোলরক্ষকের ভুল পাঞ্চ থেকে বল হুসেইনের গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। ৩২ বছর পর একই মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের জাত চেনালেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড।