https://www.a1news24.com
১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১৬

এমবাপের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারাল ফ্রান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক: গোলের জন্য শট কেবল একটি, আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড় মিলে প্রতিপক্ষের বক্সে বলে স্পর্শ স্রেফ একবার- প্রথমার্ধে এতটাই বিবর্ণ ছিল ফ্রান্স! সেই হতাশা ঝেড়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলল তারা। দলকে পথ দেখালেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করল দিদিয়ে দেশমের দল।নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এমবাপে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, বদলি নেমেই ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। শেষ দিকে সেনেগাল একটি গোল শোধ করার পরই, দর্শনীয় দ্বিতীয় গোলে আবার ব্যবধান বাড়ান এমবাপে।

বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের হয়ে টানা তিন ম্যাচে গোল পাননি। আসর শুরুর আগে কোচকে এমবাপে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের জন্য জমিয়ে রাখছেন সব। বিশ্ব মঞ্চে ঠিকই জ্বলে উঠলেন তিনি।

চার বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনালে করেছিলেন হ্যাটট্রিক, এবার প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল। বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল হলো ১৪টি। সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে চায় আর দুটি।

একটি রেকর্ড অবশ্য এই ম্যাচেই গড়ে ফেলেছেন তিনি।অলিভিয়ে জিঁরুকে (৫৭) ছাড়িয়ে ফ্রান্সের রেকর্ড গোলস্কোরার এখন এমবাপে (৫৮)।

দুই অর্ধে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স পুরোপুরিই দুই রকম। প্রথমার্ধে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়া দলটি বিরতির পর গোলের জন্য ১০টি শট নিয়ে আটটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে। ম্যাচে সেনেগালের ছয় শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচটির আগে ঘুরে-ফিরে আসছিল এই দুই দলের আগের একমাত্র সাক্ষাতের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তখনকার বিশ্ব ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশটির প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ম্যাচটিকে।

তবে এবার আর কোনো চমক দেখাতে পারল না সেনেগাল।২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকে, এই বছরের আফ্রিকান নেশন্সের কাপের বিতর্কিত ফাইনাল বাদ দিলে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এ দিন খেলতে নামে সেনেগাল।

শুরু থেকে বল দখলে ফ্রান্স আধিপত্য করলেও দুই দলের কেউ উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। পানি পানের বিরতির আগে ২৫তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত সেনেগাল। ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণ শাণায় তারা। সতীর্থের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন নিকোলাস জ্যাকসন, কিন্তু বল পোস্টে লেগে গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন সেনেগালের ইসমাইলা সার। বক্সে কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন তিনি। এটিই হয়ে থাকে প্রথমার্ধের শেষ কিক।

প্রথমার্ধে গোলের জন্য ফ্রান্সের একটি শট, ১৯৬৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দলটির সবচেয়ে কম।

৫৪তম মিনিটে বক্সে ঢুকে মাইকেল ওলিসের নেওয়া শট এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক এদুয়াঁ মঁদি। বল তার পায়ে লেগে বাইরে যায়।

চার মিনিট পর আরেকটি দারুণ সেভ করেন তিনি। এবার ওয়ান-অন-ওয়ানে এমবাপের শট ব্যর্থ করে দেন সাবেক চেলসি গোলরক্ষক।

পরের মিনিটে সাদিও মানের চ্যালেঞ্জে বক্সে এমবাপে পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে ফ্রান্স। ভিএআরের সাহায্যে মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেননি রেফারি। যেটি নিয়ে হতে পারে বিতর্ক।

এরপর যদিও গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি এমবাপেকে। ৬৬তম মিনিটে ওলিসের পাস বক্সে পেয়ে প্রথম স্পর্শে আলতো শটে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠান তিনি।

একটু পর সেনেগাল বল ফ্রান্সের জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি।

৮০তম মিনিটে দেম্বেলের বদলি নামা বার্কোলা ৮২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাঝমাঠ থেকে আদ্রিওঁ রাবিওর বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি।

আট মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে নাটকীয় কিছুর আভাস দেয় সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ের শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়।

তবে পরের মিনিটেই ব্যবধান আবার বাড়িয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন এমবাপে। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

আরো..