কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। সেই উন্মাদনার ছোঁয়া লেগেছে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলাতেও। আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে উপজেলার একটি ব্রিজ ও আশপাশের সড়কজুড়ে সাজানো হয়েছে শত শত আর্জেন্টিনার পতাকা। ফলে পুরো এলাকা এখন যেন এক টুকরো ‘আর্জেন্টিনা নগরী’তে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা সদরের এস.বি. সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন বড় ব্রিজটি আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তুলেছেন একদল আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। ব্রিজের দুই পাশে এবং আশপাশের এলাকায় শোভা পাচ্ছে অসংখ্য আর্জেন্টিনার পতাকা। বাতাসে দুলতে থাকা পতাকা আর বর্ণিল সাজসজ্জা দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
প্রতিদিনই ব্রিজটি দেখতে ভিড় করছেন শত শত আর্জেন্টিনা সমর্থক ও সাধারণ দর্শনার্থী। কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে স্থানটি ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সারদা সুন্দরী সড়কের কুন্ডু বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক আর্জেন্টিনার পতাকা টানানো হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও উড়ছে বড় বড় আর্জেন্টিনার পতাকা। বিভিন্ন স্থাপনা, সেতু, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, স্টিমারঘাট এবং বহুতল ভবনেও আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজসজ্জা করা হয়েছে। এমনকি উপজেলার একটি উঁচু মোবাইল ফোন টাওয়ারেও উড়তে দেখা গেছে আর্জেন্টিনার পতাকা।
আর্জেন্টিনা সমর্থক ছগির মাহামুদ বাচ্চু বলেন, “উপজেলায় ব্রাজিল সমর্থকরাও কয়েকশ’ পতাকা টাঙিয়েছেন। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা দুই হাজারের বেশি পতাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকা সাজিয়েছেন। এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং আমাদের প্রিয় দল এবং মেসির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন উৎসবমুখর আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়িয়ে তোলে। খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব ফুটবলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যত বাড়ছে, ততই আর্জেন্টিনার পতাকায় সেজে ওঠা কাউখালীর এই ব্রিজ ও আশপাশের এলাকা দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফুটবলপ্রেমীদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে আনন্দের খোরাক জোগাবে।