https://www.a1news24.com
৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০১

শ্রীপুরে প্রকাশ্যে নারীকে মারধর করলেন আওয়ামীলীগ নেতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি-গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের লোকজনকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। হামলায় তিন নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২নং সিএন্ডবি) মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট ও হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন, বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী সমলা খাতুন (৯৫), মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), আতিকুলের স্ত্রী মাসুদা আক্তার (৪২), তার মেয়ে বিথী আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যান্যদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পর রবিবার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে বাড়ীতে নিয়ে যায় স্বজনেরা।

আসামীরা হলেন একই এলাকার মৃত হুসেন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮) নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) এবং আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে আসামীরা বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান আসামী হাবিবুল্লাহ নিষিদ্ধ সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন লোকজন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা ভাইরাল হওয়া মারধরের ভিডিওর মন্তব্য লিখেন একাধিক হত্যা মামলার আসামী কিভাবে প্রকাশ্যে একজন নিরীহ নারীকে এভাবে পিটিয়ে আহত করে। সে নিয়মিত বাড়ীতে অবস্থান করলেও পুলিশ কি তাকে গ্রেফতার করছে না। তারা প্রধান আসামী হাবিবুল্লাহকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে দাবী জানান।

মামলার বাদী তাইজুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, শ্রীপুর ৭নং কেওয়া মৌজাস্থিত এস.এ খতিয়ান ৫৯৭, এস.এ দাগ নং- ৯৪৬, আর.এস নং ৬২৩০, ৬২৩১ দাগে তপসিল মোট ৫৬ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছে। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জবর দখল করার চেষ্টা করে আসছে। পরে সিনিয়র সহকারী ২য় আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে দে: মো: নং- ২৮/২০২৫ দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিগত ১৬ ফেব্রুয়ারী তপসিলভুক্ত জমিতে আসামীদেরকে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আসামীরা বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০ টার দিকে আমার ভোগদখলীয় জমি থেকে কাঁঠাল পাড়ার জন্য গেলে আসামীরা আমাকে কাঁঠাল পড়তে বাধা এবং হুমকি দেয়। আধাঘন্টা পর সাড়ে ১০ টার দিকে আসামীরা দা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির পাশে থাকে আমার ছোট ভাই আতিকুলের বাড়ীতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী মাসুদা, আমার ভাতিজি বিথি, আমার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আমার বৃদ্দা মা সমলা খাতুনকে বাড়ীর উঠানে ফেলে মারধর করে। তাদের চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী রেহেনা আক্তার এগিয়ে গেলে তাকেও এলোপাথারী মারধর করে আহত করে। এসময় আসামী ফাহাদ স্ত্রী রেহেনা আক্তারের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন (২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্য) লুটে নিয়ে যায়। আসামী আমিনুল স্ত্রীর পড়নের কাপড় টেনে হেঁচড়ে অর্ধবিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আসামীরা পালিয়ে থাকায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে রবিবার (৩১ মে) ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযার চলমান রয়েছে।

আরো..