ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)— এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় অংশ নেয়া একমাত্র আরব দেশ হিসেবে আমিরাতের নাম উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত এপ্রিলের শুরুতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায় আমিরাত। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে হামলাটি ঠিক কখন সংঘটিত হয়েছে— তা যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগে নাকি পরে— সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর ইরান একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় “অজ্ঞাত শত্রুর” আক্রমণের কথা জানায়। পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়।
যদিও পুরো সংঘাতে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে লাভান দ্বীপে হামলাকে দেশটির সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ যখন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ওয়াশিংটন আবুধাবির অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে।
এ বিষয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তারা আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ইরানের হামলার জবাব দেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর আগে কিছু ইসরাইলি গণমাধ্যম দাবি করেছিল, ইরানের একটি পানি শোধনাগারে হামলায় আমিরাত জড়িত ছিল। তবে সেই সময় আবুধাবি ওই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহারের দাবি করা হয়, যার বড় অংশ আমিরাতকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।