https://www.a1news24.com
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৩০

৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি হয়নি, জ্বালানি নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একইসাথে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। দেশে একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি থাকায় চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণ অয়েল পরিশোধন সম্ভব হয় এবং বাকি জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংকট সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি।

একইসাথে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি সমাধানে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাপস্টোন কোর্স ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত বোঝাপড়া সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো..