https://www.a1news24.com
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৮

মার্কা নয় মানুষ দেখে ভোট দিন: গিয়াসউদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জের রাজপথে শোডাউন ও নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে মাঠ গরম করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নির্বাচনী এলাকার কাশীপুর হাটখোলা, বাংলাবাজার এবং দেওভোগ মাদ্রাসা বাজার এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক তিনটি বিশাল জনসভায় অংশ নেন তিনি। এ সময় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাগুলো এক উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, “নির্বাচন আসলে আমাদের দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ১৬ বছর মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পেয়েছে। আমি ১৯৮৫ সাল থেকে এই কাশীপুরের মানুষের সেবা করে আসছি। সমবায় নিয়ে আমার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমি এই এলাকায় অসংখ্য কালভার্ট, ব্রিজ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছি, যা আজও দৃশ্যমান। আমি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ও সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও আমি এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।”

প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, “অতীতে যারা এই এলাকার ক্ষমতায় ছিল, তারা এখানে মাদকের সয়লাব করে দিয়ে গেছে। আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করব। আমার নিজের দলে যারা অসৎ ও বিতর্কিত ছিল, তাদের আমি অনেক আগেই দূরে সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে যারা নির্বাচন করছেন তাদের চারপাশে মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু এবং চাঁদাবাজরা ঘুরঘুর করছে। এরা যদি নির্বাচিত হয়, তবে এই শান্ত এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, মার্কা দেখে নয়, বরং ব্যক্তি বিবেচনা করে এবং অতীতের কর্মকাণ্ড দেখে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিন।”

নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার পিতার নির্দেশেই ট্রেনিং নিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশে কথা বলতে পারছি। আমি নির্বাচিত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।”

আরো..