https://www.a1news24.com
১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৩৬

পদ্মার চরে কাকন বাহিনীর তাণ্ডবে ফের খুন

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা সংঘর্ষে নতুন করে একজন নিহত হয়েছেন। এর আগে কাকন বাহিনীর হাতে চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দু’জন মারা যাওয়ার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে সোহেল নামে আরও একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ অক্টোবর “ডাবল মাডার” নামে পরিচিত ঘটনায় আলোচনায় আসে কাকন বাহিনী। ওই ঘটনায় নিহত আমানের পিতা মিনহাজ মণ্ডল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় কাকনকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩১ অক্টোবর বাঘা উপজেলার খানপুর বাজারে নিহত চারজনের পরিবার ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।

তবে সেই ঘটনার জের কাটতে না কাটতে শনিবার গভীর রাতে বাঘার গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশী ফতেপুর এলাকার করালি নোওসারা গ্রামের কালু মণ্ডলের ছেলে সোহেলকে নিশানা করে কাকন বাহিনী। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সশস্ত্র কাকন বাহিনীর সদস্যরা নদীপথে পিচ বোটে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এতে সোহেল মারা যান এবং তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম আহত হন। স্থানীয়রা রাত দেড়টায় তাকে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমাইরা বেগম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে বাঘার খানপুর বাজারে কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মিনহাজ মণ্ডল বলেন, “কাকন বাহিনী প্রকাশ্য দিবালকে নদীপথে পিচবোডে চড়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। আমরা তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয়রা আরও জানায়, কাকন বাহিনী চরের জমি ও বালি মহল দখল, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার কারণে তিন জেলার—রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ার—মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত সোমবারও খানপুর পদ্মা নদীর পাশে জমি ও খড় দখলকে কেন্দ্র করে গুলি চালানো হয়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়; নিহত হন আমান ও নাজমুল, আহত হন মুনতাজ ও রাকিব।

মানববন্ধনের এক সপ্তাহ পর নাটোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ জনকে আটক করেন। তবে কাকন নিজে ধরা পড়েনি।

এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো..