https://www.a1news24.com
১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫০

সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) আমাদের ঈমানী চেতনার বাতিঘর

সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) স্মরণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পীর মাশায়েখবৃন্দ

আযাদী আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার, ঈমানী চেতনার প্রাণপুরুষ, আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুত তরীকত, শহীদে বালাকোট হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর স্মরণে শুক্রবার (১৫ই মে, ২০২৬) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বালাকোট-চেতনা উজ্জীবন পরিষদের সদস্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উপমহাদেশে ইসলামের প্রকৃত আকীদা-আদর্শ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে যেসকল মহামনীষী অনন্য অবদান রেখেছেন তাদের অন্যতম সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)। তিনি শরীয়াত ও তরীকতের অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে যে দ্বীনি জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন নিকট অতীতে তার তুলনা বিরল। তিনি মানুষের তাযকিয়ায়ে নাফস তথা আত্মার পরিশুদ্ধির পাশাপাশি তাদেরকে জিহাদী জযবায় উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন। তাই, তিনি এই উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের ঈমানী চেতনার বাতিঘর। তার ঈমানী চেতনা, তাযকিয়া-তাসাউফ ও দ্বীনী আদর্শকে ধারণ করে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচার-প্রসারে আমাদের কাজ করতে হবে।

বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নজমুল হুদা খান, বালাকোট চেতনা উজ্জীবন পরিষদের সদস্য মাওলানা নজীর আহমদ হেলাল ও বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাদ উদ্দীন তালুকদারের যৌথ পরিচালনায় সম্মেলনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ্ব এএমএম বাহাউদ্দীন, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন দৈনিক ইনকিলাবের নিবাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রূহুল আমিন খান, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, ছারছীনা দরবারের প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. রূহুল আমীন, কদমচালের পীর ছাহেব মাওলানা মো. আবুল কাশেম, কুমিল্লার দারুল আমানের পীর ছাহেব মাওলানা শাহ মাহমুদ সিদ্দিকী আল কুরেশি, ফেনীর সিরাজিয়া দরবারের পীর ছাহেব মাওলানা মোহাম্মদ মহিব্বুল ইসলাম চৌধুরী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি মাওলানা আবু নসর জিহাদী, গাজীপুর শামসাবাদের পীর ছাহেব মাওলানা মুফতি মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জের এখতিয়ারপুরের পীর ছাহেব মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জের আব্দুল আওয়াল দরবারের পীর ছাহেব মাওলানা শাহ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছিনের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদপুর গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি এজহারুল হক, সোবহানীঘাট হজরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু সালেহ মো. কুতবুল আলম, দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল লতিফ শেখ, মাসিক পরওয়ানার সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন, ইমাম আযম ফাউন্ডেশন নওগাঁ‘র পরিচালক মুফতি মাওলানা শাহ আলম, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আন নূর জামে মসজিদ বাসাবোর খতিব মাওলানা মুফতি মনজুর হোসাইন খন্দকার প্রমুখ।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জের জহুরীয়া দরবারের পীর ছাহেব আলহাজ্ব মো. আজহারুল ইসলাম, সুন্দাদিলের পীর ছাহেব মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদপুর গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আ ন ম মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মনোয়ার হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলী রাব্বী রতন, ঢাকা মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান বাপ্পী, বিশিষ্ট আলোচক মাওলানা আব্দুল আউয়াল ফয়সল, মাওলানা নূরুল হাসান তাওহীদ, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম, ফুলতলী কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিদ আহমদ প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ সিলেট মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা জিয়াউল ইসলাম মুহিত, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সিলেট মহানগর সভাপতি হোসাইন আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু হেনা মো. ইয়াসিন, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি ফয়েজ আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি জামাল আহমদ, সিলেট পূর্ব জেলা সভাপতি হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. নাসির উদ্দীন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি জুবেল আহমদ, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাহদি হাসান প্রমুখ।

দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ্ব এএমএম বাহাউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশ শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ। যারা এই দেশ শাসন করবেন তাদেরকে এই ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা-চেতনাকে বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে হবে। এ দেশের অধিকাংশ মানুষ তাসাউফ পন্থী। তারা রাজনীতির ক্ষেত্রে পীর মাশায়েখদের কথা অনুস্মরণ করে। তাদের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মাওলানা রূহুল আমীন খান বলেন, হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর জীবনী যদি আমরা পাঠ করি তাহলে দেখতে পাই যে, তিনি খেদমতে খালক তথা অনাথ, অসহায়, গরীব ও নিঃস্ব মানুষের খেদমত করেছেন, সমাজ থেকে বিদআ’তকে দূরীভূত করার চেষ্টা করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাতকে সর্বক্ষেত্রে জিন্দা করার জন্য সারাজীবন চেষ্টা করেছেন। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও তিনি এই উপমহাদেশে খেলাফতে আলা মিনহাজুন নবুওয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা যারা তাসাউফপন্থী—জৈনপুর, ফুরফুরা, ছারছীনা, ফুলতলী, এমনকি দেওবন্দী ধারাও আমিরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি যেসব কাজ ও খেদমত করে গেছেন— গরীব-দুঃখী, অনাথ-অসহায়ের সহযোগিতা— এসব ক্ষেত্রে সাধ্যমত আমরা চেষ্টা করবো। এছাড়া সমাজ থেকে বিদআ’ত উচ্ছেদ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতকে সর্বক্ষেত্রে জিন্দা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেন, বালাকোট সম্মেলনের কাজ হলো, হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর চেতনাকে জাগিয়ে দেওয়া, পুনরুজ্জীবিত করা। আমরা হযরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত নিয়ে যেমন গৌরব করে থাকি, তেমনি হযরত সায়্যিদ আহমদ (র.)-এর শাহাদাত নিয়েও গৌরব করে থাকি। আমাদের সন্তান-পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

দারুল আমানের পীর ছাহেব মাওলানা শাহ মাহমুদ সিদ্দিকী আল কুরেশী বলেন, হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এই উপমহাদেশে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার ত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতনাকে ধারণ করে আমাদেরকেও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতে হবে।

আরো..