https://www.a1news24.com
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:০৭

মোরেলগঞ্জে টেকনিক্যাল কলেজ থেকে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিতাড়িত

১৫ বছর পর চাকরি ফিরে পেতে আইনের দ্বারস্থ

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পরই কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দিদারুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৫ বছর পর চাকরি ফেরত ও এলাকায় পুনরায় ফিরে আসতে এখন আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

২০০১ সালে মাওলানা দিদারুল ইসলাম “সুন্দরবন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ” প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কলেজটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করে।

কিন্তু কিছুদিন পর তৎকালীন সংসদ সদস্য ড. মিয়া আব্বাস উদ্দিন কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নিজের ও স্ত্রীর নামে “সেতারা আব্বাস টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ” রাখেন।

নাম পরিবর্তনের পরেও মাওলানা দিদারুল ইসলাম ২০১০ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছর এপ্রিল মাসে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে “প্রেসার বাহিনী” দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর কোনো নোটিশ ছাড়াই তাকে অধ্যক্ষ পদ থেকে সাময়িক ও চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আপিল আর্বিট্রেশন সেলের অনুমোদন ছাড়াই এই বরখাস্ত কার্যকর করা হয়। একই বছরের জুলাই মাসে জাল স্বাক্ষর দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেখিয়ে চূড়ান্ত অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। অথচ ওই সময় কলেজ পরিচালনায় কোনো কমিটিই ছিল না। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

২০১৫ সালে তার এমপিও (MPO) বাতিল হয়ে গেলে তিনি কলেজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

দিদারুল ইসলামের অভিযোগ

অধ্যক্ষ মাওলানা দিদারুল ইসলাম বলেন,“কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সময়, অর্থ ও শ্রম—সবই হারিয়েছি। এখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চাকরি পেয়েছিলাম, অথচ ষড়যন্ত্রে আমাকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করা হয়েছে। ১৫ বছর পথে পথে ঘুরেছি, এখন ন্যায্য অধিকার ফেরত চাই।”

কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন,“মাওলানা দিদারুল ইসলাম ২০১০ সালে একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে মোটা বেতনে চাকরি পেয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে ২০১৫ সালে তার এমপিও বাতিল হয়। তিনি চাকরি ফেরতের জন্য কারিগরি বোর্ডে আবেদন ও দুটি রিট দায়ের করেছিলেন, কিন্তু হাইকোর্ট রিটগুলো খারিজ করে দেন।”

তিনি আরও জানান, “সাবেক অধ্যক্ষের একটি অভিযোগ বর্তমানে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে রয়েছে, যা তদন্তাধীন।”

আরো..