এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গর্ব, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গভীর অরণ্য ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি মায়াবী চিত্রা হরিণকে উদ্ধার করে আবারও বনে অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ। বন নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিপিজি (কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ) ও ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের সহযোগিতায় বনরক্ষীরা শনিবার সকালে হরিণটি উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা জামাল মীরের বাড়ির বাগান থেকে হরিণটি উদ্ধার করা হয়। হঠাৎ লোকালয়ে হরিণের উপস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরে বনবিভাগের তৎপরতায় সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে বাড়ির লোকজন বাগানে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে বাইরে এসে একটি চিত্রা হরিণকে ছুটোছুটি করতে দেখেন। পরে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষজন বাড়ির আশপাশে ভিড় করতে শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করা স্থানীয় সংগঠন সিপিজি ও ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের।
খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনরক্ষীদের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামবাসীদের সহায়তায় হরিণটিকে নিরাপদে আটক করেন। পরে শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে বন সংলগ্ন এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।
বনবিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন ভোলা নদীর কিছু অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন ও লোকালয়ের মাঝের প্রাকৃতিক ব্যবধান কমে এসেছে। ফলে অনেক সময় বনের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণ নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে আসে। এতে প্রাণীগুলো যেমন আতঙ্কিত হয়, তেমনি লোকজনের মধ্যেও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
স্থানীয়দের ধারণা, খাবারের সন্ধানে অথবা কোনো বন্যপ্রাণীর তাড়া খেয়ে হরিণটি গভীর রাতে বন থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতির কারণে অনেক সময় হরিণ আতঙ্কে দিকভ্রান্ত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, খুড়িয়াখালী গ্রামের একটি বাড়িতে হরিণ প্রবেশ করেছে—এমন সংবাদ পেয়ে বনরক্ষীদের পাঠানো হয়। সিপিজি ও ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের সহযোগিতায় হরিণটি উদ্ধার করে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন সংলগ্ন এলাকায় কেউ বন্যপ্রাণী দেখতে পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বনবিভাগকে জানানো উচিত। জনসচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমেই বন্যপ্রাণী রক্ষা সম্ভব।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লোকালয়ে ঢুকে পড়া হরিণটি জীবিত উদ্ধার ও বনে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বনবিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং গ্রামবাসীর সমন্বিত উদ্যোগের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।