দেশের জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে এই প্রকল্প এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের ঐতিহাসিক এই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আনুমানিক ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সফলভাবে শেষ হলে জুলাই বা আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানির দক্ষতা অত্যন্ত বেশি। মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ। রাশিয়ার সহযোগিতায় ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বাস্তব উৎপাদনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রকল্পটির দুটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন চুল্লি ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কন্ট্রোল রুমে গুরুত্বপূর্ণ ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে। এতে জ্বালানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পে ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি দেশি প্রকৌশলীদের হাতে হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের শক্তি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।