https://www.a1news24.com
১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:০১

যেকোনো মুহূর্তে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, গোপন ব্যালটে মতামত নিলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ ৬ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যানের টেবিলে। যেকোনো মুহূর্তে এই কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ ওই নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন, আধা ঘণ্টার ওই সাক্ষাতে বিএনপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ শাসনামলে ও চব্বিশের আন্দোলনে সংগঠনের ভূমিকার জন্য ছাত্রদলকে ‘ধন্যবাদ’ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন।

এদিকে বৈঠকের পরপরই রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড একাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

পোস্টে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ! মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।

তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাকিব তার অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তিনি আমৃত্যু গর্বিত। কারণ, তার এসব নেতৃবৃন্দের নামে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি। প্রচণ্ড আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের আওতাধীন ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু নিজেরাই সৎ ও পরিশ্রমী ছিলেন না, তাদের অধীন নেতা-কর্মীদেরও সততা, নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন না হন, সেদিকে বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। নিজের দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যেকোনো বিষয়ে তার শরণাপন্ন হলে, নিজের জায়গা থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ জানান।

ছাত্রদলের সভাপতি আরও লিখেছেন, রাকিব-নাসির কমিটির মূল সফলতা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ও বীরোচিত ভূমিকা পালন। ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মব মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দায়িত্ব ছাড়ার পর কী করবেন সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই নেতা। তিনি বলেন, ‘একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।’

কেউ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন জানিয়ে তিনি লেখেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তারও ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান। পরিশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা

জানা গেছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠের ভূমিকা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে এবার ছাত্রদলের নেতৃত্বের মূল মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভাপতি পদে আলোচনায় যারা

নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ, সহসভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, খোরশেদ আলম সোহেল, তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মোঃ কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং ১ নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আকতার শুভ।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে

এ ছাড়া নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ২০১০-১১ সেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সোহেল রানা ও ইব্রাহিম খলিল। অন্যদিকে গাজী সাদ্দামও আলোচনায় রয়েছেন।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও দুই বছর মেয়াদের এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে।

আরো..