https://www.a1news24.com
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৪০

ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় সিলেট শাহী ঈদগাহ মাঠে সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী মেলা বন্ধের দাবি

# স্মারকলিপি প্রদান ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
# সিলেটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ব্যতীত সব মেলা বন্ধের দাবি মেট্রোপলিটন চেম্বারের

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটে সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী মেলার আয়োজনের উদ্যোগকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পৃথক পৃথক ভাবে মেলা বন্ধ এবং বছরে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের দাবিতে আগামী রবিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনতিবিলম্বে মেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিলেট দোকান মালিক সমিতি ও বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বুধবার রাতে নগরীর বারুতখানাস্থ ফুড প্যারাডাইস হোটেলের হলরুমে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক জরুরি যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ আজিজুল করিম এবং মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাভেল। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মল্লিক মুন্না।

সভায় বক্তারা বলেন, কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক পরিচালনা খরচ তুলতেই যেখানে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে পৃথক একাধিক মেলা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। ব্যবসায়ী নেতারা স্পষ্ট করেন, তারা মেলার বিরোধী নন। প্রচলিত বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী জেলায় বছরে একটি আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হলে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু পৃথক মেলার সিদ্ধান্ত পরিহার করে সিলেট চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও উইমেন চেম্বারকে যৌথভাবে বছরে একটি মেলা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা প্রশাসক এবং এসএমপি কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। আগামী তিন দিনের মধ্যে মেলা বন্ধের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তা দেন তারা।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট দোকান মালিক সমিতি জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল করিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মঈন উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া চৌধুরী নোমান, শুকরিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শুয়েব আহমদ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদ আহমদ, রাসেল আহমদ, সমিরণ দে, মো. মোয়েজ মিয়া শুভ, শুকরিয়া আধুনিক বিপণী বিতান ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন, কোর্ট পয়েন্ট ব্যাংক মসজিদ মার্কেট ইনামুল করিম চৌধুরী, ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সিটি ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি শুয়েব আহমদ অভি, বৃহত্তর জিন্দাবাজার ব্যবসায়ী সমিতি ফরহাদ উল্লাহ চৌধুরী, জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েক মিয়া, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল নাছির, মধুবন সুপার মার্কেট সাধারণ সম্পাদক মনছুর আহমদ, কুমারপাড়া ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক নাহিদুর রহমান, বিপণী বিতান মার্কেট সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সচেতন ব্যবসায়ী সমাজ মীর মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন কামাল, নয়াসড়ক বিএসএ সাধারণ সম্পাদক হুসাইন আহমদ এবং সিলেট ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান লিলু প্রমুখ।

এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দা, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ব্যতীত সিলেটে যেকোনো ধরনের স্থানীয়, পণ্য বা ইনডোর মেলা আয়োজনে অনুমতি না দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই)।
গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি খায়রুল হোসেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা ও সমর্থন প্রকাশ করে এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে এসএমসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, সিলেটের স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বছরজুড়ে চড়া দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন এবং সরকারি কর ও ভ্যাট পরিশোধ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।এমন সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হঠাৎ স্বল্পমেয়াদি মেলা কিংবা ইনডোর মেলার আয়োজন করা হলে নিয়মিত ও স্থায়ী ব্যবসায়ীরা অসম ও অসাধু প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিপুল বিনিয়োগ এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে চেম্বার সভাপতি বলেন, বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সিলেটের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় অনাবশ্যক মেলা আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত বা বাস্তবসম্মত নয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে সুষ্ঠু ও সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় যেকোনো মেলার অনুমতি বাতিল ও বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখলেও স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার বিষয়টিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি (সিলেট জেলা শাখা), সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদ ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদের যৌথ দাবির প্রতি পুর্ণ সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার।-বিজ্ঞপ্তি

আরো..