https://www.a1news24.com
২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৩০

প্রবাসীদের প্রধানমন্ত্রী, ‘আসুন সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি।”

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরে হোটেল শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি। আপনাদের প্রতি দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ থাকবে, আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কি করতে পারি দেশের জন্য। এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা, আপনাদের কাছে এই আশা রাখছি।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত দেড় দশকে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা তুলে বলেন, “এ দেশ থেকে কেউ একজন, একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে। দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বুকের রক্ত দিয়েছে মানুষ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি।”

রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাংগ্রি লা হোটেলে পৌঁছার পর মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সঙ্গে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনের নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। দোয়া করবেন যাতে এইগুলো বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।”

প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিকল্পনাগুলো একে একে তুলে ধরেন। উপস্থিত প্রবাসীরা মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন এবং তার চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সামনে একটা অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এখানে একটা বিরাট ‘তবে’ আছে। তবে হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে এর জন্য কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমি আসার সময় কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে আমার কাছে এবং এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে। আমার দেশের ভাইরা যদি এখানে এত সুন্দর কাজ করতে পারে তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।”

১/১১ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখুন বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় এবং তারপরেও আমার সাথে, আমার মায়ের সাথে, আমার ভাইয়ের সাথে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা কল্পনা করা যায় না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়ত অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটা করি, তাতে উপকার কী হবে, বলতে পারেন? কারো উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”

উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রবাসী। অবশ্যই দেশের প্রতি আপনাদের দাবি আছে, পাশাপাশি, দেশের প্রতি আপনাদের কর্তব্যও আছে।”

তিনি বলেন, “প্রবাসী হিসেবে আপনার যেমন দেশের প্রতি কর্তব্য আছে, দেশি হিসেবে আমাদেরও দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। আসুন আমাদের কি দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে চিন্তা করি দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে। আমরা দেশ থেকে কি নেবো এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

আরো..