https://www.a1news24.com
৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৫৬

দারিদ্রের কষাঘাতে কিডনি বিক্রির ঘোষণা মহসিনের

মো. ইফতেখার হোসেন তুহিন, হাতিয়া (নোয়াখালী) সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মহসিন নামের এক যুবক। বিষয়টি ভাইরাল হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঋণের বোঝা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে মহসিনের এ সিদ্ধান্ত। ঘটনার পর স্থানীয়রা তার দোকানে ভিড় করছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে তাকে দেখতে আসছেন অনেকে। খোঁজখবর নিচ্ছেন, দিচ্ছেন সাত্বনা।

জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবুল কাশেমের ছেলে মহসিন। ¯œাতক শেষ করে চাকরি নিয়েছিলেন একটি ওষুধ কোম্পানিতে। প্রেমের বিয়ে অতপরঃ বাবা-মাকে ছেড়ে আলাদা থাকতে বাধ্য হন। বাসা ভাড়া, সংসারের খরচ ও স্ত্রীর বিলাসিতার খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। মাস শেষে প্রাপ্ত বেতনে খরচ মেটানো তো দূরের কথা, ঋণের কিস্তি দিতেই নাভিশ^াস। এক এনজিওর কিস্তি শোধ করতে আরেক এনজিও থেকে ঋণ। ঋণে ঋণে জর্জরিত অনটনের সংসারে একদিন স্ত্রীও ডিভোর্স চেয়ে কাবিনের টাকা নিয়ে চলে যায়। কাবিনের টাকাও ঋন করায় চরম হতাশা পড়ে মহসিন ।

এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আত্মীয়-স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতায় ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করলেও ঋণগ্রস্থ থেকে মুক্তি পাননি মহসিন। এনজিওর কিস্তি ও আত্মীয়দের ধারের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি বিক্রির ঘোষণা দেন মহসিন।

স্থানীয়রা জানান, মহসিন একজন ভালোমনের মানুষ। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। দোকানের সামনে প্রতিদিন এনজিওর লোকজন বসে থাকে। আত্মীয়-স্বজনের ধার নেওয়া টাকাও শোধ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি চরম হতাশায় পড়ে কিডনি বিক্রির ঘোষণা দেন।

মহসিন বলেন, “আমি পালালেও ঋণ শোধ করতে হবে। মরে গেলেও পরিবারকে এ টাকার জন্য ধরবে। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এলাকার সচেতন মহলের অভিমত, এনজিও ঋণে স্বাবলম্বী করে দেওয়াও তাদের একটা দায়িত্ব। এক্ষেত্রে এনজিওরা ঋণ পুনঃনির্ধারণ করতে পারতো। তা না করে তারা যদি মানুষকে পঙ্গু বানিয়ে দেয় তাহলে এনজিওদের সফলতা কোথায়? কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিংবা সরকারি উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা নিয়ে যদি কর্জে হাসানা পদ্ধতিতে একটা ব্যবস্থা মহসিনের জন্য করতে পারে। তাহলে সে কিডনি বিক্রি না করে তার ফার্মেসী ব্যবসা চালিয়ে ঋণের বোঝা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

আরো..