https://www.a1news24.com
২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:০৬

জেন-জিদের বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ছাত্ররা তার বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ সময় নেপালের প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশটির একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।দেশজোড়ে বিক্ষোভের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে অবশেষে পদত্যাগে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি।

গণবিদ্রোহের দাবি মেনে নিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর তরফেও তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করা হয়েছিল। নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর পর সেনাবাহিনীর কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান ওলি।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নেপাল সরকার। তা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। দীর্ঘ দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয় ওলির ওই সিদ্ধান্ত।

প্রতিবাদে পথে নামে দেশের ছাত্রযুবরা। তাদের বিক্ষোভে সোমবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল রাজধানী কাঠমান্ডু। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালায়। তাতে মৃত্যু হয় অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারীর।

এর পর বিক্ষোভের ঝাঁঝ আরও বেড়ে যায়। চাপে পড়ে রাতেই নেপাল সরকার সমাজমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিবৃতি দেয়। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভেজেনি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ওলির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল। ফলে চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে হল ওলিকে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ব্যক্তিগত বাসভবনে ধরিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। এর আগে নেপালের প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের খবর আসতে থাকে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দর। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। নেপালের বিভিন্ন মন্ত্রীকে তাদের বাসভবন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

তাদের বাড়িতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়া টুডে’। সূত্রের ভিত্তিতে ওই সংবাদমাধ্যমে এ-ও জানানো হয়েছে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ওলির। ওলিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রীর পরে এবার নেপালের আরও অনেক মন্ত্রী ইস্তফা দেন। মঙ্গলবার তরুণদের বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেতেই প্রথমে ইস্তফা দিলেন নেপালের কৃষিমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি সদর দফতরে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কমিউনিস্ট পার্টির সদর দফতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালিয়েছেন তারা। ভবন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক দলের পতাকা।

নেপালে বিদ্রোহের মাঝে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ২১ জন এমপি গণইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে নেপালের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। অগ্নিসংযোগ হয়েছে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের বাসভবনে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা সিপিএন নেতা প্রচণ্ডের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। এ ছাড়া সদ্য ইস্তফা দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের বাসভবনেও আগুন ধরানো হয়েছে।

অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতে, নেপালি কংগ্রেসের সদর দফতরে। এ ছাড়া ইউএমএল নেতা মহেশ বাসনেত, নেপালি কংগ্রেসের নেতা গগন থাপার বাড়িতেও আগুন ধরানো হয়েছে।

নেপালি কংগ্রেসের সদর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কাঠমান্ডুতে। বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে কাঠমান্ডুর সনেপায় নেপালি কংগ্রেসের সদর দফতরেও অগ্নিসংযোগ করেন বিদ্রোহীরা।

সোমবার রাতেই ইস্তফা দিয়েছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বার ইস্তফা দিলেন নেপালের জলসংযোগ মন্ত্রী প্রদীপ যাদবও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অন্নপূর্ণা পোস্ট অনুসারে, মন্ত্রীর দাবি, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

পরে সেনাবাহিনীর অনুরোধে পদত্যগে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্যই বরণ করতে হলো নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির।

আরো..