https://www.a1news24.com
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:১৬

কাউনিয়ায় কৃষিতে অপার সম্ভাবনা

তিস্তার চরে মরিচের বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বালুমাটি এখন সবুজ মরিচে ভরা, যা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলেছে। কাউনিয়ায় তিস্তার চরসহ বিভিন্ন গ্রামে মরিচ চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদলের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত। চরের পলিমাটিতে কম খরচে বেশি ফলন এবং চড়া দাম পাওয়ায় চাষিরা লাখপতি হচ্ছেন। উর্বর জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি ও হাইব্রিড মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক কৃষক। মরিচ বর্তমানে অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে সাহায্য করছে। উৎপাদন খরচ কম, রমজানে বাজারে কাঁচা মরিচের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাচ্ছে চাষিরা। মরিচ চাষ কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান বদলে দিচ্ছে। মরিচ বর্তমানে অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে সাহায্য করছে। মরিচের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সরেজমিনে তিস্তা নদী বেষ্টিত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ইতি মধ্যে কেশ কিছু গ্রাম মরিচের গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে কাউনিয়ার মরিচ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ঢুসমারা চর, প্রাণনাথ চর, গোপী ডাঙ্গা, চর গদাই, চর গনাইসহ তিস্তা নদীর জেগে উঠা ২২টি চরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ সব চরের চাষীরা আলু, ভুট্টা, গম, রসুন, পিয়াজের পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে মরিচ চাষ করেছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮৫ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ২০৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ২৫ হেক্টর বেশী জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাাধরা হয়েছে ৪৬৩ মেঃটন। তিস্তার চরাঞ্চলে পলি ও উর্বর দোআঁশ মাটিতে এবার মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে। চরগনাই গ্রামের দুদু মিয়া জামান এ বছর অক্টবর-নভেম্বর ভাদ্র আশ্বিন মাসে এক বিঘা জমিতে ফরিদপুরী জাতের মরিচ চাষ করে ফলন ভাল হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতি মণ মরিচ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। একই কথা জানালেন ঢুসমারা চরের কৃষক তাজুল ইসলাম। রোপনের ৬০ দিনের মধ্যেই মরিচ ফলন ধরা শুরু হয়। তবে জাত পোকা, পচন ধরা জাতীয় রোগ হয়। মরিচ বর্তমানে অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে সাহায্য করছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, রংপুর অঞ্চলে মরিচ সংরক্ষনের জন্য সরকারী বা বে-সরকারী কোন হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা বাধ্য হয়েও কম দামে মরিচ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কাউনিয়ায় টেপামধুপুর, তকিপল হাট ও খানসামা হাট মরিচের অন্যতম বড় হাট। তকিপল হাট নদী সংলগ্ন হওয়ায় এখানে প্রচুর মরিচ আসে। হাটে ঢাকা, ফেনী, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা কাঁচা মরিচ কিনতে আসেন। কৃষকরা জানান, কাউনিয়ার মরিচের ঝাল বেশি হওয়ায় চাহিদাও বেশি। তকিপল হাটের আড়ৎদার হাফিজার বলেন, প্রতি হাটে প্রায় ১৪০-১৫০ মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। চরসাব্দী গ্রামের মরিচ চাষি এরশাদুল আলম জানান ২৫ শতক জমিতে সে ১ম তোলায় প্রায় ২০মন মরিচ তুলেছে, এভাবে ৭-৮ বার তোলা যাবে। প্রথমে সে মরিচ ৪হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করেছে, বর্তমানে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কম সার, খরচও কম, লাভ বেশি। তাই চাষিরা মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এবার ফলন হয়েছে বাম্পার। মরিচে ভাগ্য বদলের চেষ্টা চরাঞ্চলের চাষি তাজুল ইসলাম জানান, তিস্তার চরের মরিচের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে মরিচ এখন শুধু ফসল নয়, এটি হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য বদলের প্রতীক। কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তানিয়া আকতার বলেন, এ বছর অনুকুল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কম খরচে অধিক লাভে চরাঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মরিচ এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।

আরো..