নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবন তুলে ধরতে দিনব্যাপী আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এআই বিল্ড-এ-থন ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ই-কমার্স ও ফিনটেক এই ৫টি ক্যাটাগরিতে সেরা ৫টি দলকে ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এবারের বিল্ড-এ-থনে সারা দেশের নিবন্ধিত ৩৮৪টি দল থেকে বাছাইকৃত সেরা ৬২টি দলের ১৭২ জন উদ্ভাবক চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন। উল্লেখ্য, এই আয়োজনে ২৩ জন নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ই-কমার্স ও ফিনটেক খাতের জন্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করেন।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলগুলো হলো— AgriTech ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ২য় বর্ষের দল এপিব্রিয়াম। তাদের প্রডাক্টের নাম হচ্ছে গরু সেবা। যার মাধ্যমে তারা একটি গরুর খামারের বিভিন্ন ধরনের অটোমেশন সেবা দিয়ে থাকে। AgriTech ক্যাটাগরিতে আরেক বিজয়ী দলের নাম হচ্ছে জিঞ্জার । তাদের প্রডাক্টের নাম হচ্ছে এগ্রিসেন্স। এর মাধ্যমে তারা এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে মানুষকে আবহাওয়া ও মাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সর্বরাহ করে। HealthTech-এ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় নিঞ্জা এআই EdTech-এ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় ড্যাফোডিল ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা এআই ও রাজশাহী ক্যান্টমেন্ট বোর্ড স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা আকতার নিবের লার্নিফাই। সাবিহার প্রডাক্টের নাম হচ্ছে ‘AI Tutor’। যেটা দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সে একটি টিউটরিং সেবা তৈরি করেছে। বিজয়ী প্রত্যেক দল তাদের উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি করে অ্যাপল (Apple) ল্যাপটপ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে লাভ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবুবকর হানিফ। এ ছাড়া মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ড. জুনায়েদ কাজী, আনিস রহমান, মুনির হাসান, মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান এবং আরিফুল হাসান ।
সমাপনি অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবুবকর হানিফ বলেন, এ অনুষ্ঠানের আয়োজকরা যে উদ্যোগটি নিয়েছে এটি খুবই সময় উপযোগী উদ্যোগ। আমি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে একটি ইনকিউবেশন সেন্টার আছে। যারা আজকে এখানে বিজয়ী হবে তাদেরকে আমরা ইনভেস্টর পেতে সেখান থেকে সহযোগিতা করব।
সবুর খান বলেন, আমাদের জীবনের সময় কিন্তু খুবই কম। সবাইকে এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। জীবনে একটা টার্গেট সেট করতে হবে। এরপর গোল অ্যাচিভ করতে এগিয়ে যেতে হবে। একটি জিনিসের প্রতি ফোকাস থাকতে হবে। অনেক কিছু একসাথে করতে গেলে হবে না। যদি জীবনে কোন গোল ঠিক থাকে, টার্গেট ঠিক থাকে এবং সেটাতে ফোকাস ধরে রাখা যায় তাহলে সেই টার্গেট অ্যাচিভ হবেই।
ড. জোনায়েদ কাজী বলেন, আমাদের এই আয়োজন এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাদের মত ইয়াং মাইন্ডকে টেন এক্স পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা চাইনা এখান থেকে একজন বা দুইজন স্টার তৈরি করতে। আমরা চাই মিলিয়ন স্টার মাইন্ড তৈরি হবে আমাদের এই আয়োজন থেকে। এটাই একমাত্র উপায় বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজয়ীদের এই প্রজেক্টগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) দল ‘NOOB101’ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে জানায়, “ভার্সিটি জীবনের শেষ পর্যায়ে কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। লিংকড ইনে বিজ্ঞপ্তি দেখে বন্ধুদের নিয়ে চলে আসা। অফলাইনে আয়োজিত এই প্রোগ্রাম থেকে অনেক নতুন আইডিয়া ও মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিলেছে।” চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দল ‘CUET Mongolchari’ জানায়, বিশ্বজুড়ে এআই-এর যে বিপ্লব চলছে, তার সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার এই উদ্যোগে শামিল হতে পেরে তারা আনন্দিত। এই আয়োজনে রাজশাহী ক্যান্টমেন্ট বোর্ড স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা আকতার নিব তার নিজের তৈরি করা ‘AI Tutor’ প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হয়। এই প্রজেক্টের সম্ভাব্য কার্যকারিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সাবিহা জানান: “অনেক শিক্ষার্থীকেই কোচিং বা প্রাইভেটে পড়ার জন্য অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়। এছাড়া, একটা বিষয় বার বার বোঝার প্রয়োজন হলেও অনেক সময় সেটা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে এআই দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। সেই ধারণা থেকে এই প্রজেক্ট তৈরি করা”
উল্লেখ্য সকালে বিল্ড এ থন আয়োজনের উদ্বোধন করেন মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার মুনির হাসান। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার আনিস রহমান। আর দিনব্যাপী এই আয়োজনের পরিচালনা করেন মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান। আয়জকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় আগামীকাল ১৭ জানুয়ারি ঢাকার এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজনের বিস্তারিত জানতে ও অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে ভিজিট করুন https://millionxbangladesh.org/event/day2।
আয়োজনে সহায়তা করছে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ডিপার্টমেন্ট ওফ ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রিপ্রেনুরশিপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও বিলিয়ন্স ফর বাংলাদেশ। এছাড়া কারিগরী সহায়তা প্রদান করছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস, ক্যারিয়ার ক্যানভাস, ও ভার্সেল ভিজিরো।