https://www.a1news24.com
২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৫

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট অঞ্চলের বাতিঘর-ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এ অঞ্চলের বাতিঘর। এই সাহিত্য সংসদ আমাদেরকে আলোর সন্ধান দিয়েছে। সিলেটে সাহিত্য সংস্কৃতির কর্মীদের আশ্রয়স্থল ছিলেন মুহম্মদ নূরুল হক এবং কে›ন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ। আমাদের প্রজন্ম আলোকিত হয়েছে সাহিত্য সংসদের দ্বারা, পরবর্তী প্রজন্মও যাতে আলোকিত হয় আমাদেরকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট-এর ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ মাসউদ খান আরো বলেন, পবিত্র কোরআনের প্রথম কথাই হচ্ছে ইকরা, অর্থাৎ পড়। জ্ঞানচর্চা ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। মহৎ কর্মের মৃত্যু নেই, তেমনি জ্ঞানেরও বিনাশ নেই। আমাদেরকে সৎকর্ম ও জনকল্যাণমুলক কাজ করতে হবে। সৎ কর্ম করার জন্যে পবিত্র কোরআনে বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাহিত্য সংসদের সাথে ‘মুসলিম’ শব্দটি সংযুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। সংসদের সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন এখনো শেষ হয়নি। তাই সংসদকে সৃষ্টিশীল ও প্রাণবন্ত রাখার জন্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কেমুসাস সাহিত্য আসর কক্ষে শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা। পরে সন্ধ্যা ৭টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের। এনামুল হক জুবের বলেন, সিলেটের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের নিয়ে ১৯৩৬ সালে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে মুহাম্মদ নুরুল হকের সম্পাদনায় ‘আল ইসলাহ’ সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের পর চারিদিকে সাড়া পড়ে যায়। এই সাময়িকী পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজকে আলোকিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যদি এই সাময়িকী এখন নিয়মিত প্রকাশিত হয়, তাহলে এই অঞ্চলের সাহিত্য জগতে আলোড়ন ফেলতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ২০২৫-২৬ এর আহবায়ক অধ্যাপক এম. আতাউর রহমান পীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক ছড়াকার প্রভাষক কামরুল আলম।

কেমুসাসের পাঠাগার সম্পাদক নাজমুল আনসারী এর উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন কেমসাসের সহ-সভাপতি আফতাব চৌধুরী, সহ-সভাপতি রুহুল ফারুক, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সাবেক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, আল ইসলাম সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কেমুসাসের কার্যকরী পরিষদ সদস্য কামাল তৈয়ব, বিশ্ব বাংলা সম্পাদক মুহিত চৌধুরী, কবি বাছিত ইবনে হাবীব, কেমুসাসের সহ-লাইব্রেরি সম্পাদক ইশরাক জাহান জেলি, ভ্রমণ কাহিনী লেখক মোয়াজ আফসার, কবি শামসীর হারুনুর রশিদ প্রমুখ। আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী জহুর মুনিম।

স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন অমিত মামুন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আদিল আনোয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মোঃ আল ওয়ালিদ। এছাড়া বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন কানিজ আমেনা ও আমির হোসেন সোহাগ।

আরো..