https://www.a1news24.com
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৫০

হাদি হত্যায় বিতর্কিত মন্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে নাম উল্লেখ না করে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হত্যা সংক্রান্ত মমতার সেই মন্তব্যের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অভ্রতনু সরকার নামে এক ব্যক্তি। আদালতে জমা দেয়া রাজ্য সরকারের রিপোর্টের ভিত্তিতে মমতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ এ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে নাম উল্লেখ না করে বাংলাদেশের হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সে সময় জনসভায় উপস্থিত অনেকেই মমতার কাছে সেই নাম প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার যুক্তি ছিল- জাতীয় স্বার্থেই তিনি নাম প্রকাশ করবেন না।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও অনেকের ধারণা ছিল যে, মমতা বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গেই ইঙ্গিত করছিলেন। প্রতিবেশী দেশের সেই ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মমতা। সেই মন্তব্যের জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলেও মনে করা হয়েছিল।

মমতার ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করেই সম্প্রতি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অভ্রতনু সরকার নামের ওই ব্যক্তি। গত ১ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানিতে বিতর্ক সৃষ্টিকারী ওই মন্তব্যের বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট তলব করেছিল হাইকোর্ট। বুধবার আদালতে সেই রিপোর্ট জমা দেয় রাজ্য সরকার। রিপোর্টে জানানো হয়, মমতার মন্তব্যের মধ্যে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের (কগ্নিজেবল অফেন্স) উপাদান ছিল না। বুধবার রাজ্যের তরফে এমন রিপোর্ট পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মমতার বিরুদ্ধে হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দেন।

প্রসঙ্গত, এই মামলা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। এটি কেন জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। সেই সঙ্গে জনস্বার্থ মামলাকে একটি ‘যন্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করায় ভর্ৎসনা করেছিলেন তিনি।

আরো..